খুদেদের হাতে কিচেন গার্ডেন, হাওড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃষিতে হাতেখড়ি
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রেললাইনে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম। শহরের কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে সবুজে মোড়া সেই পরিবেশে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য এক পাঠ শিখছে একদল খুদে। পাঠ্য বইয়ের অক্ষরজ্ঞান যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে মাটির গন্ধ চিনে নেওয়ার শিক্ষা। সাঁকরাইল ব্লকের কান্দুয়া পঞ্চায়েতের ভগবতীপুরের নমিতারানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
স্কুল চত্বরে ঢুকলেই নজরে পড়ে একচিলতে কিচেন গার্ডেন। সেখানে ছোটো ছোটো হাতে পরিচর্যা করা হচ্ছে শাক-সবজি ও নানা গাছের। প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোটে ১৮ জন পড়ুয়া রয়েছে এখানে। অথচ তাদের উৎসাহে ভরপুর এই সবুজ প্রকল্প। প্রতিটি পড়ুয়াকে একটি করে গাছের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জল দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, গাছের বেড়ে ওঠা লক্ষ্য করা— সবই তারা করছে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে স্কুল পরিদর্শনে এসে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ কিচেন গার্ডেন তৈরির পরামর্শ দেন। তাঁর উদ্যোগেই কিছু চারাগাছ আসে স্কুলে। তারপর ধীরে ধীরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে এই বাগান। এখন তা স্কুলের গর্ব।
প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা দাস বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকে প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। নিজের গাছের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের মধ্যে যত্নশীলতা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কেও তারা সচেতন হচ্ছে।’ চতুর্থ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার আগে নিজের গাছের দায়িত্ব নীচের ক্লাসের পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়ার রীতিও চালু হয়েছে এখানে। এ যেন সবুজের উত্তরাধিকার। এই বাগানের ফসল শুধু শিখন-প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে খুদেদের উৎপাদিত শাক-সবজি। ফলে খাবারের মান যেমন বাড়ছে, তেমনই শিশুদের মধ্যে আত্মতৃপ্তির অনুভূতিও জন্ম নিচ্ছে। শিক্ষা আর কৃষির এই মেলবন্ধন নিঃসন্দেহে গ্রামীণ প্রাথমিক শিক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষকরা জানান, ভবিষ্যতে ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে উৎসাহ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, বই পড়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার এই অভিজ্ঞতা শিশুদের বাস্তব জীবনে অনেক বেশি আত্মনির্ভর ও সচেতন করে তুলবে। ছোট্ট এই বিদ্যালয়ের সবুজ চর্চা ইতিমধ্যেই আশপাশের এলাকাতেও আগ্রহের সঞ্চার করেছে।