• ডাকঘর লাগোয়া বঙ্কিম ভবনে সাহিত্যসম্রাটের মূর্তি অপরিষ্কার, সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: বারুইপুর প্রধান ডাকঘরের পিছনে একটি উদ্যান লাগোয়া ভবন। সেটি বঙ্কিম ভবন নামে পরিচিত। একসময় এটি ছিল বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস। সেখানে তাঁর একটি মূর্তি আছে কাচের ঘরে। কিন্তু তা অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযোগ, ডাকঘর কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। পোস্টমাস্টার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখব।’

    জানা গিয়েছে, ১৮৬৪ সাল থেকে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এজলাস ভবনটি সংস্কার করে নতুন রূপে তৈরি করা হয়েছে। তখন সে এজলাসে এসেছেন মাইকেল মধুসুদন দত্ত, নীলদর্পণের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। সে সময় এই এলাকায় প্রচুর নীলচাষ হত। বারুইপুরের বাসিন্দা গবেষক উজ্জ্বল সরদার বলেন, বঙ্কিমবাবুর এজলাস চলাকালীন বারুইপুর রাসমাঠে ১৮৬৫ সালে রাসমেলায় পদপৃষ্টের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় উনি নিজে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। এই তথ্য সংবাদ প্রভাকর পত্রিকাতে বেরিয়েছিল।

    এছাড়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বারুইপুর ও জয়নগরের কিছু এলাকা। ঘটনার খবর পেয়ে উনি পর্যবেক্ষণে যান। ডাকঘর কর্তৃপক্ষের অবশ্যই মূর্তি সযত্নে রাখা উচিত। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বঙ্কিম ভবনটি এখন আধার কার্ডের সংশোধন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই কাজ এখন বন্ধ থাকায় ভবনে তালা ঝুলছে। মূর্তি পরিষ্কার করা হয় না। ডাকঘরের লোকজনদের এই বিষয়ে জানানো হলেও তাঁরা কোনো কর্ণপাত করেননি। কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দেখা উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)