খুনে অভিযুক্ত হারুনকে আশ্রয়, গ্রেপ্তার বিহারের বিজেপি নেতা
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খান খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুনকে বিহার শরিফে আশ্রয় দিয়েছিল যে, সেই মহম্মদ তাজকে গ্রেপ্তার করল হাওড়া সিটি পুলিশ। তবে তাকে ডাকাতির পরিকল্পনা ও অস্ত্র আইনে হেপাজতে নিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, এই তাজের সঙ্গে মুঙ্গেরের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের যোগ রয়েছে এবং সে নিজেও এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, সে ওই রাজ্যে পদ্ম শিবিরের অন্যতম মুখও বটে। মুঙ্গেরে বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ছিল এই তাজ। ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দু’বছর সে ওই দায়িত্ব পালন করেছে। শফিক খুনের মামলায় অভিযুক্ত আফগান যুবক হারুনের সঙ্গে তার যোগাযোগ কীভাবে, অস্ত্রের কারবারই বা কীভাবে করত, সে সম্পর্কে ধৃত তাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
শফিককে খুনের পর বিহার শরিফে পালিয়ে যায় হারুন ও তার সঙ্গী রোহিত। সেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছিল এই বিজেপি নেতার বাড়িতে। হাওড়া সিটি পুলিশ ও সিআইডি অফিসাররা তদন্ত করতে গিয়ে সটান চলে যান তাজের বাড়িতে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে সে জানায়, হারুন ও রোহিত দিল্লি চলে গিয়েছে এবং তাদের পালাতে সাহায্য করেছে সে। এরপরই তাজকে আটক করেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। প্রসঙ্গত, বেলুড় থানা এলাকায় ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগে কিছুদিন আগে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র মেলে। অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, এই অস্ত্র আনা হয়েছে বিহারের মুঙ্গের থেকে। মুঙ্গেরে বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মহম্মদ তাজের মাধ্যমে ঘুরপথে অস্ত্র এসেছে বেলুড়ে। তাজ নিজেই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার চালাচ্ছে। এরপর তাকে ওই পুরনো মামলায় নিজেদের হেপাজতে নেয় বেলুড় থানা।
তাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, খাতায়-কলমে সে ঠিকাদারির কাজ করে। বিভিন্ন সরকারি অফিস, সংশোধনাগার ইত্যাদি জায়গায় কাজের বরাত পেয়েছিল সে। তাজের পিছনে রাজনৈতিক তকমা থাকায় এলাকায় সে প্রভাবশালী বলে পরিচিত। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন, মুঙ্গেরের একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ী তার পরিচিত। সে নিজেও অস্ত্র কেনাবেচা করে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে সে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাঠায় বলে অভিযোগ। তাজ কার মাধ্যমে এই রাজ্যে অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে, তাকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অফিসাররা জেনেছেন, কলকাতায় তার যাতায়াত রয়েছে। এখানে তার ডেরা আছে। এমনকি, শহরে প্রোমোটিং ব্যবসায় টাকাও খাটাচ্ছে সে। এ রাজ্যের শাগরেদরা প্রোমোটিং ব্যবসা দেখভাল করে।
হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, খুন হতে পারে এই আশঙ্কা তার মধ্যে অনেকদিন ধরেই ছিল। সেই কারণে হাওড়া সিটি পুলিশের সমস্ত স্তরে চিঠিও দেয় সে। সেখানে শফিকের কথা উল্লেখ করে জানায়, ওই প্রোমোটার তাকে খুনের পরিকল্পনা করেছে। তবে হারুন নিজের পিঠ বাঁচাতে আগেভাগেই এই চিঠি হাওড়া সিটি পুলিশের কাছে দিয়েছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখছেন অফিসাররা।