• নেপালে ধৃত দম্পতির বাড়িতে রাশিয়ান নর্তকীদের আসর! জোর চর্চা কামারহাটি জুড়ে
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির মেয়ে জড়িত নেপালের জালনোটের কারবারে। ৭০ কোটি টাকার জাল নোট সহ নেপাল পুলিশ তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কামারহাটি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে বাপের বাড়ির তল্লাটে পুজো, খেলা ও মেলায় দেদার টাকা ওড়ানো, প্রভাবশালী নেতাদের নেপালে নিয়ে যাওয়া, ফ্ল্যাটে রাশিয়ান ড্যান্সার এনে ফূর্তি-হুল্লোড় ইতিমধ্যে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিতর্ক দানা বাঁধতেই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে সিপিএম সহ বিরোধীরা। শাসক দলের তরফেও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

    কামারহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেলঘরিয়া শরৎপল্লি এলাকায় আবাসনে থাকত দীপা ধর। দক্ষিণ ২৪ পরগনা সোনারপুরের হরিণাভি এলাকার অরিন্দম ধরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে এই দম্পতি নেপালকে ‘ভিত্তি’ করে জালনোটের কারবার চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সোনারপুর ছাড়াও বেলঘরিয়ায় প্রভাবশালীদের সঙ্গে ওঠাবসা ও দেদার টাকা উড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, বেলঘরিয়ায় তাদের ফ্ল্যাট ছিল। সেই ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যেই মদের আসরে রাশিয়ান নর্তকীদের এনে আমন্ত্রিতদের মনোরঞ্জন করানো হত বলে এলাকার অনেকের দাবি। শুধু তাই নয়, এলাকার একটি দুর্গাপুজো ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জন্য ওই দম্পতি লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাও দিয়েছেন। এমনকি, বেলঘরিয়ার এক প্রভাবশালীকে নেপালে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এবং ব্যবসায় টাকা লাগানোর বিষয়টি চায়ের ঠেকে তুফান তুলছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সায়নদীপ মিত্র বলেন, আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। ওই জালনোটের কারবারিদের সঙ্গে এলাকার কার যোগাযোগ, কোন ফ্ল্যাটে রাশিয়ান মহিলা এনে বেলি ড্যান্স করানো হত, কোথায় কোথায় কী উদ্দেশ্যে চাঁদা দিয়েছে, এখানেও জালনোটের কারবারে কেউ যুক্ত কি না, সেসব প্রকাশ্যে আসা দরকার। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, আমরাও চাই নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হোক।
  • Link to this news (বর্তমান)