হাদি খুনের দিনই সন্ধ্যায় মেঘালয় দিয়ে ভারতে ঢোকে দুই অভিযুক্ত
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে ইনক্লাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি খুনের মামলায় অভিযুক্ত শার্প শ্যুটার রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন শ্যুট আউটের দিনই সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয় এসেছিল। খুনের পর তারা যে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর পূর্ব ভারতে ঢুকবে এই পরিকল্পনা তারা ছকেই ছিল। এরজন্য আগে থেকেই দালালদের সঙ্গে কথা বলে রেখেছিল। এমনকী টাকাপয়সাও পাঠিয়ে দেয়। ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য হাতে এসেছে বেঙ্গল এসটিএফের। রাজ্যে যারা এই দু’জনকে আশ্রয় দিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে খবর।
হাদি খুনে ধৃত ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে সে আগেও কয়েকবার কলকাতায় এসেছে। মেঘালয় ও গুয়াহাটিতে তার অনেক পরিচিত রয়েছে। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক পুরনো। হাদিকে খুনের পরে তারা মেঘালয়ে আসবে বলেই ঠিক করে রাখে। তারজন্য সেখানকার সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অনলাইনে বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠিয়ে দেয়। তারা সীমান্ত পার করানো, গাড়ি ভাড়া, থাকার ব্যবস্থা করে দেবে বলে জানায়। পরিকল্পনামতো হাদিকে খুনের পরই সন্ধ্যার মধ্যে ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্তে এসে এক দালালকে ফোন করে। ভারতে আসার জন্য পর্যাপ্ত টাকা নিয়েই বেরিয়েছিল। সেই দালাল তাদের এদেশে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের সিম ফেলে দিয়ে এখানকার সিম মোবাইলে ঢোকায়। এই সিমের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ওই দালাল। মেঘালয়ে থাকতে শুরু করে বাড়ি ভাড়া নিয়ে। একাধিকবার ডেরা ও সিম বদল করে। এখানে থাকার সময় ভারতীয় নথি জোগাড় করার চেষ্টা করেছিল। নাম বদল করে আধার ও প্যান কার্ড জোগাড়ের পর ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে নির্বাচনের দিকে তারা নজর রাখছিল। ধৃতরা জেরায় অফিসারদের জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকলে তারা খুন হয়ে যেত। ভারতে পালিয়ে এলে তাদের ধরা মুশকিল হবে জেনেই সীমান্ত পেরোয়। তাদের এদেশে আনতে ও থাকতে যারা যারা সাহায্য করেছিল সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে দুই অভিযুক্ত। মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের নাম পরিচয় হাতে এসেছে তাঁদের। সেগুলি যাচাই করার কাজ চলছে।