প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় আচমকা পরিদর্শনে যাবেন উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের প্রতিনিধিরা, উপস্থিত থাকবেন সভাপতি স্বয়ং
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের অন্যায্য সুবিধা প্রদান বা বঞ্চিত করার ধারায় কি ছেদ পড়তে চলেছে? নিয়ামক সংস্থা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই সম্ভাবনাই প্রবল। এবার থেকে পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলগুলিতে আচমকা পরিদর্শনে যেতে পারেন সংসদের প্রতিনিধিরা। জেলাগুলিতে এই পরিদর্শন হতে পারে ডিআইদের নেতৃত্বে। কলকাতার স্কুলগুলিতে যেতে পারেন সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার এবং অন্য শীর্ষ আধিকারিকরা।
বর্তমান নিয়মে দ্বাদশের দুটি সেমেস্টার মিলিয়ে মৌলিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য প্রায়োগিক বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ৩০ নম্বর থাকে। আর কলাবিভাগের বিষয়গুলিতে প্রজেক্ট থাকে ২০ নম্বরের। আগে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে ২০ শতাংশ প্র্যাকটিক্যালের জন্য বরাদ্দ থাকত। আর কলাবিভাগের বিষয়গুলির পরীক্ষা হত পুরোপুরি লিখিত। তাই বর্তমানে প্রজেক্ট বা প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে, এগুলি পুরোপুরি স্কুলের দায়িত্বে থাকে। প্রশ্নপত্র তৈরি, মূল্যায়ন এবং নম্বর দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন পরীক্ষার্থীদের নিজস্ব স্কুলের শিক্ষকরাই। কোনও বহিরগত শিক্ষক বা সংসদ মনোনীত প্রতিনিধি থাকেন না। তাই অনেক সময়েই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একজন শিক্ষক বলেন, ‘অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা স্কুল শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি করেন। তাঁর কাছে যাঁরা প্রাইভেট টিউশন নেয়, সেই পড়ুয়াদের নম্বর বাড়িয়ে দেন বা ফুল মার্কস দেন। আর বাকিদের নম্বর অন্যায্যভাবে কেটে নেন। তাই একটা নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে পার্থ কর্মকার বলেন, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা আরো স্বচ্ছভাবে আয়োজনের জন্য আচমকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারণ, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেকটা নম্বরই এই পরীক্ষায় বরাদ্দ থাকে।’ যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, সংসদ সভাপতি যে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন, এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। স্কুলগুলি পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের চাপে ফুলমার্কস দিতে বাধ্য হয়। সেটা যথার্থ মূল্যায়ন নয়। এদিকে, অনেক সময়ই দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাকে গুরুত্বই দিচ্ছে না। অনুপস্থিত থাকছে। পরে ডেকে অন্যদিন পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। সময় পেরিয়ে গেলেও ডেকে ডেকে প্রজেক্টের খাতা পাওয়া যাচ্ছে না। এই ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া দরকার।’ প্রসঙ্গত, ২ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ স্কুলগুলিতে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি, একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাকেও আরো প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চান সভাপতি। বর্তমানে একাদশের পরীক্ষার নম্বর উচ্চ মাধ্যমিকে যোগ হয় না। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলপ্রকাশও করে থাকে স্কুলগুলি। তাই এই পরীক্ষা নিয়েও গাছাড়া মনোভাব তৈরি হয়েছে বহু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে। তাই আপাতত পরীক্ষার রুল পরিবর্তন না করেই প্রশ্নপত্র তৈরিতে নজরদারি এবং পরীক্ষার সময় পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা চালু করে পরীক্ষাটিকে আরো স্বচ্ছ করে তুলতে চাইছে সংসদ।