• দু’মাসে রেলের ৭টি প্রস্তাবিত প্রকল্পেরই জমি অধিগ্রহণে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিগোষ্ঠী, রেলমন্ত্রীর দাবি ওড়াল নবান্ন
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন আসতেই বিজেপির দিল্লির বাবুদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার এমনই একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, রেল প্রকল্পের জমি নিয়ে রাজ্য অসহযোগিতা করছে। কিন্তু নবান্নের তথ্য বলছে, একেবারে ভিন্ন কথা। রাজ্যের দাবি, গত দুই-আড়াই মাসে বাংলায় রেলের সাতটি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে জমি চাওয়া হয়েছিল। নতুন করে আসা এই প্রস্তাবগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিগোষ্ঠী। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ মোটেই ঠিক নয় বলে দাবি রাজ্যের।

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মন্ত্রিগোষ্ঠীর সদস্যরা বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পগুলির জমি অধিগ্রহণের পরবর্তী পদক্ষেপ করার সম্মতি দেওয়া হয়েছে সেখানেই।

    সাম্প্রতিককালে কোন সাতটি প্রকল্পের জন্য জমি চাওয়া হয়েছিল রেলের তরফে? নবান্ন সূত্রের খবর, গুমানি থেকে মালদহ টাউন তৃতীয় এবং চতুর্থ লাইন, আদ্রা-শঙ্কা-রুকনি ১৩.৬০ কিলোমিটার ডাবলিং, ৫.৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের গৌরীনাথধাম থেকে পুরুলিয়া (চান্ডিল প্রান্ত) পর্যন্ত রেল উড়ালপুল, পুরুলিয়ায় ১০.৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রুকনি থেকে আনারা স্টেশন পর্যন্ত রেল উড়ালপুল, সাঁতরাগাছি জংশন-পাঁশকুড়া জংশন-খড়্গপুর জংশন পর্যন্ত চতুর্থ লাইন, জলাইগুড়িতে বানারহাট-সামতসে (ভুটান) পর্যন্ত রেল লাইন এবং হাওড়া-খড়্গপুর সেকশনের হাউর স্টেশনের কাছে আরওবি নির্মাণের জন্য জমি চাওয়া চাওয়া হয়েছে। আর প্রতিটির ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সম্মতির জন্য ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে মন্ত্রিগোষ্ঠী।

    কিন্তু, কী বলেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব? তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু জমি পেতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের মাত্র ২৭ শতাংশ জমি পাওয়া গিয়েছে। ফলে প্রকল্পের কাজ ধাক্কা খাচ্ছে। এই ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় রেলমন্ত্রী বলেন, জমি সমস্যায় আটকে রয়েছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইনের কাজও। কিন্তু, রাজ্যের দাবি ভবাদিঘির সমস্যা ইতিমধ্যেই মিটে গিয়েছে। ফলে এই লাইনের কাজ করতে আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। এছাড়া অনেকগুলি প্রকল্প রয়েছে, সেগুলির জমি সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই সমাধান করা সম্ভব হয়নি। সেগুলির ক্ষেত্রেও নবান্ন নিষ্পত্তির পথ খুঁজছে বলে প্রশাসনিক মহলের খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)