• লালগোলায় ৪টি পূর্ণবয়স্ক গোরু পাচারের সময় ধরা পড়ল বাংলাদেশি
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, লালবাগ: পদ্মার জল কমতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গোরু কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রবিবার গভীর রাতে বিএসএফের খান্দুয়া সীমা চৌকির ৭১নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা বাংলাদেশে গোরু পাচার রুখে দেন। লালগোলার রাধাকৃষ্ণপুর হয়ে পদ্মা পেরিয়ে সীমান্তের ওপারে যাওয়ার আগে চারটি পূর্ণবয়স্ক গোরু সহ এক বাংলাদেশিকে আটক করেছেন তাঁরা। পরে গোরুসহ ওই বাংলাদেশিকে লালগোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নাইম শেখের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের সাহাপাড়া তারাপুরে।

    ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে কয়েকবার ভারতে ঢুকে গোরু নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে সফল হয়েছিল। কয়েকদিন আগেই বিএসএফের নজর এড়িয়ে রাধাকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে সে এদেশে এসেছিল। ওই একই পথে ফেরার সময় ধরা পড়ে।

    বিএসএফ জানিয়েছে, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ জওয়ানরা রাধাকৃষ্ণপুরে পদ্মা নদীর কাছে ওই ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করেন। জওয়ানরা সেদিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলে নাইম শেখ সীমান্তের দিকে ছুটতে শুরু করে। জওয়ানরা পিছু ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে চারটি গোরু বাজেয়াপ্ত হয়।
    কয়েকবছর আগেও লালগোলা থানার একাধিক সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক হারে বাংলাদেশে গোরু পাচার হত। রাতের অন্ধকারে দলে দলে গোরু চাষের জমির উপর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হত। কিন্তু গোরু পাচারের কারবারে সীমান্তের বাহুবলীদের প্রত্যক্ষ যোগ থাকায় চাষিরা কিছু বললে চোখরাঙানি, শাসানি বা হুমকির মুখে পড়তে হত। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হত না। তবে সম্প্রতি বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গোরু পাচারে অনেকটাই রাশ টানা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু আবার লালগোলার সীমান্তে গোরু সহ পাচারকারী গ্রেপ্তারের খবরে চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)