• গত পাঁচ বছরে বীরবাহার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে ৮৬টি কাজ
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: তাঁর নামের অর্থ বনফুল। বনফুলের মতোই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ঝাড়গ্রামকে সাজিয়ে তুলতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি বীরবাহা হাসদা। ২০২১ সালে অসংরক্ষিত ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সার্বিক উন্নয়নের। তাঁর বিধায়ক তহবিলের টাকায় গত পাঁচ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তাঁর দেওয়া ৮৭টি প্রস্তাবের মধ্যে ৮৬টি কাজ হয়েছে। বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও হাতির উপদ্রব ঠেকানোর কাজে উল্লেখজনক সাফল্য মিলেছে।

    বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার অধিকাংশই করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনে মানুষের জন্য আরও কাজ করে যাব। রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত মুখ বীরবাহা অরণ্যভূমির মানুষের সার্বিক উন্নয়নে ধারবাহিক কাজ করে চলেছেন। ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় জিতে বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের ও জঙ্গলমহলকে সবুজে ভরিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উন্নয়নমূলক কাজের সূত্রে অচিরেই জেলার মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেন। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও দলের কর্মীদের নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বিধায়কের বিরুদ্ধে জেলার বিরোধী দলগুলি অপপ্রচারে নেমে পড়েছে। প্রতিদিন ভুল তথ্য দিয়ে নিশানা করার চেষ্টা হচ্ছে। বীরবাহ পাল্টা গত পাঁচ বছরে এলাকার মানুষের কাছে তাঁর কাজের খতিয়ান তুলে ধরছেন। বিধায়ক হিসেবে, ৮৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের তরফে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। একশো শতাংশ শিডিউল ফান্ডের ভিত্তিতে ৮৬টি প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। প্রকল্পের বাস্তবায়নে ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে। কিছু কাজ এখনও চলছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও মৃতদেহ বহনের গাড়ি দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সবরকম মেডিকেল সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনপুর গ্ৰামীণ হাসপাতাল, মানিকপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের বসার জন্য শেড তৈরি হয়েছে। একাধিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ হয়েছে। যার মধ্যে মাগুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়, পণ্ডিত রঘুনাথ মেমোরিয়াল স্কুল, মানিকপাড়া রাজবাসা প্রাথমিক বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য। সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৫টি কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। সেবায়তন শিক্ষা মহা বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের মেটাল হাইস্কুলের জন্য সদ্য দুটো শ্রেণিকক্ষ তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় রাতে জন নিরাপত্তার জন্য হাই মাস্ট ও মিড মাস্ট আলো লাগানো হয়েছে। পুরসভার বাছুরডোবা শ্মশান, সলতলা শ্মশান ও রাধানগর গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাই মাস্ট আলো লাগানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    বিনপুর-১ ব্লকের মাগুরা এলাকায় আলোর ব্যবস্থা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনপুর গ্ৰামীণ হাসপাতাল হাই মাস্ট ফ্লাড লাইট বসানো হয়েছে। ঝাড়গ্রাম পুর এলাকায় শিশু পার্ক প্রকল্প গ্ৰহণ করা হয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকের রামগড় এলাকার যাত্রীদের সুবিধার্থে শেড নির্মাণ করা হয়েছে। রাজাবাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল পাত্র বলেন, বিধায়ক তাঁর তহবিল থেকে সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা দেন। তাতে দু’টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)