সংবাদদাতা, কালনা: সোমবার নাদনঘাট থানার বিদ্যানগর মোড়ে জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির সাড়ে ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনে সব্জি ও মাছের স্থায়ী স্টলের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এদিন স্থানীয় বাজার কমিটির হাতে ভবনের চাবি তুলে দেন মন্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক দেবাশিস নাগ, বিদ্যানগর জিডি বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক বিভাস বিশ্বাস প্রমুখ। ওই ভবনে মোট ৫০টি স্টল রয়েছে।
কৃষিগোলা পূর্ব বর্ধমান জেলা। ধান, আলু পেঁয়াজ,পাটের সঙ্গে পূর্বস্থলী-১ ও ২ ব্লকে কয়েক হাজার বিঘে জমিতে সব্জি চাষ হয়। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের কালেখাতলা, পারুলিয়া ও পূর্বস্থলী-১ ব্লকের সমুদ্রগড় বাজার ও কিষাণ মাণ্ডিতে পাইকারি সব্জি আড়ত রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে খুচরা বিক্রয়ের একাধিক বাজার। এমনই একটি এসটিকেকে রোডের ধারে বিদ্যানগর মোড়ের বাজার। প্রতিদিন সব্জি থেকে মাছ প্রভৃতি বিক্রয় হয়। খোলা আকাশের নীচে রাস্তার ধারে ঝুঁকি নিয়ে বহু বছর ধরেই বাজার চলছিল। ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের দাবি ছিল, মাথার উপর আচ্ছাদন যুক্ত স্থায়ী ভাবে বিক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা করা হোক। সেই দাবি মেনে এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মন্ত্রীর উদ্যোগে ও স্থানীয় বাজার কমিটির সহযোগীতায় কৃষি বিপনন দপ্তরের অধীন জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটি সাড়ে ৪৩ লক্ষ টাকা অনুমোদন করে। সেই অর্থ ব্যয়ে একতলা কংক্রিটের আচ্ছাদন যুক্ত আড়াই হাজার বর্গফুটের বেশী এলাকা জুড়ে বাজার গড়ে ওঠে। এখানে পঞ্চাশজন সব্জি ও মাছ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ভাবে ব্যবসার সুযোগ পেলেন। স্বপনবাবু বলেন, বহু পুরানো এসটিকেকে রোডের ধারে বিদ্যানগর মোড় বাজার। সব্জি ও মাছ সহ অন্যান্য বিক্রেতারা খোলা আকাশের নীচে রাস্তার ধারে এতদিন ব্যবসা করে আসছিলেন। জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির সাড়ে ৪৩ লক্ষ টাকা আর্থিক আনুকুল্যে ও স্থানীয় বাজার কমিটির সহযোগিতায় স্থায়ী কংক্রিটের বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। পঞ্চাশজন সব্জি, মাছ ও অন্যান্য বিক্রেতা উপকৃত হলেন। আগামী দিনে দ্বিতল ভবন গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। তাতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে। স্থানীয় বাজার কমিটির সেক্রেটারি কর্ণদেব বাগ বলেন, এতদিন খোলা আকাশের নীচে বাজার বসতো। রোদ বৃষ্টিতে খুব সমস্যায় পড়তে হতো। এখন স্থায়ী আচ্ছাদন যুক্ত বাজার হওয়ায় বিক্রেতা ও ক্রেতা সকলেই উপকৃত হলেন। এরজন্য আমরা স্বপনবাবুর কাছে কৃতজ্ঞ।