দাঁতনে ইটভাটায় বচসা থামাতে গিয়ে আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা বেলদা: দাঁতন থানার পানিতুনিয়া এলাকার একটি ইটভাটায় বচসা থামাতে গিয়ে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ৪ মার্চ হোলির সন্ধ্যায় ভাটার শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হওয়া গোলমাল থামাতে গিয়ে বিহারের বাসিন্দা ফাগু চৌহান (৪৮) গুরুতর জখম হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সেই সময়ে বচসারত শ্রমিকদের একাংশ অতর্কিতে লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ, ফাগুবাবুর মাথায় সজোরে লাঠির আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। এই ঘটনার পর দীর্ঘ কয়েক দিনের লড়াই শেষে রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিহারের জাহানাবাদ জেলার ধীরাবিঘা এলাকার বাসিন্দা ফাগুবাবু কর্মসূত্রে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে ওই ইটভাটায় থাকতেন। গত ৪ মার্চ সহকর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হলে তিনি তা মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সেই সময়ে একদল উত্তেজিত শ্রমিক লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এরপর তাঁকে প্রথমে দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় তাঁকে ওড়িশার একটি উন্নত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে উন্নততর চিকিৎসার আশায় ফের রবিবার কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। কিন্তু পথিমধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ায় তাঁকে ফের দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে রাত প্রায় ১১টা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শ্রমিকের স্ত্রী অরুণা দেবীর অভিযোগ, যারা তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালিয়েছে, তাঁরা আদতে তাঁদেরই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, পুরনো কোনো আক্রোশের বশবর্তী হয়ে পরিকল্পনা করেই ফাগু চৌহানের মাথায় লাঠির আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছেলেরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছিল, আমার স্বামী শুধু তা থামাতে গিয়েছিলেন। ওরা চক্রান্ত করে ওঁর মাথায় লাঠি মেরেছে। এখন তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আমি দোষীদের কঠোর শাস্তি ও বিচার চাই। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।