• যুদ্ধের কারণে সারের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় চাষিরা, পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে, দাবি কৃষিদপ্তরের
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। যার জেরে দাম বাড়তে পারে সারের— এই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন নদীয়া জেলার চাষিরা। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় ভারতের সার আমদানির উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা কৃষি বিশেষজ্ঞদের।
    ভারত ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ড্যাপ), পটাশ সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সারের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। এতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সারের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হাঁসখালির এক সার বিক্রেতা বলেন, সারের সরবরাহে টান পড়ছে। যদিও এখনও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু এইভাবে ক’দিন চালবে জানি না।‌

    কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের মোট ইউরিয়া আমদানির প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও বাহারিনের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। একইভাবে ড্যাপ সারের ক্ষেত্রেও সৌদি আরব অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ। বিশেষ করে ড্যাপ, এমওপি (মিউরিয়েট অব পটাশ) এবং বিভিন্ন জটিল সারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ২.৫ মিলিয়ন টন অ্যামোনিয়া আমদানি করেছে ভারত। এর মধ্যে প্রায় ১ মিলিয়ন টন এসেছে ওমান থেকে, প্রায় ০.৯ মিলিয়ন টন সৌদি আরব থেকে এবং প্রায় ০.২ মিলিয়ন টন কাতার থেকে। এই দেশগুলির অনেকেই বর্তমানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে সারের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ। কৃষকদের একাংশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত সার মজুত করে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

    তবে নদীয়া জেলায় আপাতত সারের কোনো সঙ্কট নেই বলেই দাবি প্রশাসনের। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় প্রতি মাসে ইউরিয়া, ড্যাপ এবং পটাশ সারের চাহিদা যথাক্রমে প্রায় ৬৫০০ মেট্রিক টন, ৬২৫ মেট্রিক টন এবং ১০৬৫ মেট্রিক টন। বর্তমানে জেলায় এই তিন সারের মজুত চাহিদার তুলনায় অনেকটাই বেশি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ইউরিয়ার মজুত রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, ড্যাপ সারের মজুত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন এবং পটাশ সার মজুত রয়েছে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন।

    চাহিদার তুলনায় মজুত অনেক বেশি থাকায় আপাতত সারের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছে প্রশাসন। নদীয়া জেলার কৃষিদপ্তরের আধিকারিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে যত সার জেলায় মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব। তাই কৃষকদের অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।

    চাপড়ার চাষি মইনুল শেখ বলেন, মাঝেমধ্যেই সারের কালোবাজারির জন্য আমাদের বেশি দামে সার কিনতে হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে যদি সারের দাম বেড়ে যায় তাতে আরও সমস্যা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)