• ইমপিচমেন্ট! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সই সংগ্রহ শুরু
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: কলকাতা সফরে এসেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ঠিক সেই সময়েই তাঁকে পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ নিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সংসদে পেশ করা হতে পারে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব, যা এর আগে কোনোদিন হয়নি। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৈরি হয়ে গিয়েছে চিঠির খসড়া। আজ, মঙ্গলবার শুরু হবে সেই প্রস্তাবের সমর্থনে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির সই সংগ্রহ।

    ইতিমধ্যে সংসদে আরও একটি ‘ইমপিচমেন্টের উদ্যোগ’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেটা অবশ্য লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে। ওম বিড়লা পক্ষপাতদুষ্ট, এই অভিযোগ এনে তাঁকে পদচ্যূত করার উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেস। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এব্যাপারে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চেয়ে লোকসভা সচিবালয়ে ১১৯ সাংসদের সই সংবলিত চিঠি দেওয়া হয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো তৃণমূলের কোনো সাংসদ অবশ্য তাতে স্বাক্ষর করেননি। যদিও এখন সেই অনাস্থা প্রস্তাবের প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, ‘আমরাও সঙ্গে আছি।’ পালটা আশ্বাস এসেছে কংগ্রেসের কাছ থেকেও। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে রাহুল গান্ধীর দলও। তৃণমূলের দাবি, লোকসভার ন্যূনতম ১০০ এবং রাজ্যসভার ৫০ জন সাংসদ সই করবেন। তার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ। সই সংবলিত নোটিস (চিঠি) চলতি সপ্তাহেই জমা দেওয়া হবে লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। সেটি গৃহীত হলে আনা হবে ইমপিচমেন্ট মোশন।

    সেই মোশন গৃহীত হতে প্রয়োজন সভায় উপস্থিত কমপক্ষে ৫০ সাংসদের হাত তুলে সমর্থন। তারপর আলোচনা। শেষে ভোটাভুটি। মোশনের পক্ষে সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের ভোট মিললে তবেই পদচ্যূত হবেন জ্ঞানেশ কুমার। সংসদের দুই কক্ষে যা আদায় করা বিরোধীদের কাছে কঠিন। তবে এটি হারজিতের বিষয় নয়। জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি যে বিরোধীদের আস্থা নেই, তা আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হবে যাবে সংসদে। পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে সেই বার্তাই দিতে চায় তৃণমূল।

    সোমবার সকালে সংসদে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে বসেছিল বিরোধীদের স্ট্র্যাটেজি বৈঠক। সেখানেই রাহুল গান্ধী, সুপ্রিয়া সুলে, দয়ানিধি মারান, সঞ্জয় রাউতের মতো বিরোধীদের সামনে তৃণমূলের লোকসভার উপদলনেত্রী শতাব্দী রায় বলেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে কলকাতায় রাস্তায় অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আমাদের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রস্তাব দেওয়া হয় ইমপিচমেন্ট মোশনের।’ তা শুনে বিরোধীরাও সম্মতি দেন। বলা হয়, প্রক্রিয়া শুরু হোক!
  • Link to this news (বর্তমান)