• গ্যাস সিলিন্ডারের সাপ্লাই বন্ধ, বন্ধ হতে বসেছে এই দুই শহরের সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • গ্যাসের দেখা নেই। বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) আচমকাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সাপ্লাই (shortage of commercial LPG cylinders)। একই ছবি বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়েও (Mumbai)। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দু’দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ (hotels and restaurants may Shut Down) হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন (India Hotels and Restaurant Association)। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা করে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ বাহিনী। তার পর থেকেই পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ় প্রণালী। এই পথ দিয়েই তেল এবং গ্যাস সরবরাহ করা হয় গোটা বিশ্বে। ফলে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক এবং ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের দামেও।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলি জানিয়েছিল, আগামী ৭০ দিন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু তার পরেও আচমকাই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি পিসি রাও সরাসরি বলে দেন, ‘গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে মঙ্গলবার থেকে হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ এই নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা হয়নি বলেই দাবি।

    একই সুরে পুরো হোটেল ইন্ডাস্ট্রি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন ইন্ডিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় শেট্টি। তিনি বলেন, ‘এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই দিনের মধ্যে মুম্বইয়ের সব হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে।’ রবিবার থেকেই মুম্বইয়ে সিলিন্ডারের সাপ্লাই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ রেস্তোরাঁর মালিকরা।

    হোটেল ইন্ডাস্ট্রি জরুরি পরিষেবার মতোই। অনেকের রুটিরুজি নির্ভরশীল। তাছাড়া সাধারণ মানুষ, বয়স্ক লোকজন থেকে ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবীদের একাংশ প্রতিদিন নানা ভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁর খাবারের উপরে নির্ভর করে থাকেন। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়বেন সকলেই।

    ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান আদৌ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন অনেকে। ফলে চাহিদা বাড়ছে। যাঁদের দুটি সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁরা আগেভাগে বুকিং করে রাখছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের সাপ্লাইকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০ দিনের বদলে ২৫ দিন অন্তর বুকিংয়ের নিয়মও ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

  • Link to this news (এই সময়)