• বাড়তে পারে জ্বালানির দাম! আশঙ্কায় শহরের অটো চালকরা
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: দুপুর বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার অটো চালিয়ে ভাড়া হয়েছে মাত্র ৩৬৮ টাকা। মালিককে গাড়ি ভাড়ার টাকা বুঝিয়ে, গাড়ি জমা করে সন্ধে ছ’টাতেই বাড়ি ঢুকে যান ব্যস্ত রুট রানিকুঠি–যাদবপুরের (Jadavpur) অটোচালক নকুল মাহাতো। বলছেন, ‘গাড়ি নিয়ে বেরোলেই খরচ। তার থেকে বসে থাকাই ভালো। কত দিন এ ভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।’

    রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে (LPG Price Hike)। এ বার যুদ্ধের প্রভাবে গাড়ির জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় শহর ও শহরতলির অটোচালকেরা। গড়িয়া–গড়িয়াহাট রুটের অটোচালক শঙ্কর মণ্ডলের কথায়, ‘এ বার যদি গাড়ির গ্যাসের দাম বাড়ে, তা হলে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়াই মুশকিল হবে।’

    এখন শহরের অটো চলে পরিবেশবান্ধব কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি)–এ (CNG)। নির্দিষ্ট পাম্প থেকে এই গ্যাস অটোয় ভরেন চালকেরা। কিনতে হয় কেজি দরে। দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন রুটের অটোচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধেতেও তাঁরা গ্যাস কিনেছেন প্রতি কিলো ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা দরে। উত্তর শহরতলির দমদম, বাগুইআটি, সল্টলেক রুটের অটোচালকদের দাবি তাঁরা গত দশ দিন ধরে ৬২ টাকা ৪৮ পয়সা দরে গ্যাস কিনছেন। আগের তুলনায় পাঁচ টাকা বেড়েছে গ্যাসের দাম।

    তবে উত্তর থেকে দক্ষিণ — সব পাম্পে গ্যাস মেলেনি। তাতে অটোর গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত অটো ইউনিয়নের নেতা অশোক চক্রবর্তী বলছেন, ‘অটোর গ্যাস সব পাম্পে পাওয়া যায় না বলে কিছু জায়গায় চাহিদা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট পাম্পে লম্বা লাইন পরে।’ অটোচালকদের অভিযোগ, ই–রিকশা, র‍্যাপিডো বাইকের দাপটে অটোয় যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তাঁদের হিসেব, লাভ করতে হলে এক জনকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে হাজার দুয়েক টাকা ভাড়া খাটতে হবে। যে টাকা এখন সপ্তাহে তিন দিনও হয় না। এক জন অটোচালককে অটোর ভাড়া বাবদ মালিককে ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই ভাড়ার হার বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন। যা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট রুটের অটোচালকদের ইউনিয়ন। কোথাও গ্যাসের টাকা দেন মালিক। কোথাও অটোচালক নিজেই গ্যাস কেনেন। তার উপরে ঠিক হয় মালিকের পাওনা।

    অটোচালকদের দাবি, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে ঠিক মতো ভাড়া হলে তবেই এক জন চালক দিনের শেষে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা নিয়ে বাড়ি যেতে পারেন। তবে এই আয় সপ্তাহে প্রতি দিন হয় না। যাদবপুরের অটোচালক শুভজিৎ সরকারের কথায়, ‘এরপরে অটোর গ্যাসের দাম বাড়লে কার্যত না খেয়ে মরতে হবে।’ তারাতলা–ঠাকুরপুকুর রুটের অটোচালক তন্ময় হাজরার কথায়, ‘গ্যাসের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া রাস্তা থাকবে না। তবে তা তো ঠিক করবে ইউনিয়ন।’ উত্তর কলকাতার অটোচালক তরুণ দত্ত–ও বলছেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়লে ফের ভাড়া বাড়ানো ছাড়া রাস্তা থাকবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)