• ড্রেন থেকে মিটবে পানীয় জলের চাহিদা, উদ্যোগ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • তাপস প্রামাণিক

    ড্রেনের নোংরা জল (Dirty Water) দিয়েই মিটবে তৃষ্ণা! রান্না থেকে থেকে কাপড় কাচা, বাসন মাজা, স্নান, সবই হবে ড্রেনের জলে। ড্রেনের জলকে শোধন করে পাইপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পাঠানো হবে। সেই লক্ষ্যপূরণে এ বার কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য সরকার। এর বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি একটি ‘ড্রাফট পলিসি’ (খসড়া নীতি) তৈরি করেছে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর (Department of Municipal and Urban Development)। সেটাকে চূড়ান্ত করার আগে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

    যত দিন গড়াচ্ছে সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও পানীয় জলের (Drinking Water) সঙ্কট তীব্র হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে বলে ভবিষ্যদ্বানী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় জলের চাহিদা পূরণ করতে ড্রেনের নোংরা জলকে শোধন করে সেটাকে ঘর সংসারের কাজে লাগাতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সরকারি কর্তাদের দাবি, এতে একদিকে যেমন জলের ঘাটতি মিটবে, তেমনি নদী ও সমুদ্রের জলে দূষণ কমবে।

    রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, পুরসভা কিংবা পিএইচই (PHE) থেকে পাইপের মাধ্যমে যে জল সরবরাহ করা হয়, তার কিছুটা আসে নদী কিংবা সমুদ্র থেকে। বাকিটা ভূগর্ভ থেকে। কিন্তু গরমের সময় নদীতে জল কমে গেলে অথবা ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। সেজন্য গ্রীষ্মকালে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। ড্রেনের জলকে কাজে লাগাতে পারলে এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে। কারণ, রোজ আমরা যে জল ব্যবহার করি, তার সিংহভাগটাই নিকাশি ড্রেন কিংবা নালা দিয়ে নদী, খাল অথবা জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রেনের নোংরা জলকে শোধন করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব। কী ভাবে এই কাজটা হবে, সে ব্যাপারে কোনও সুস্পষ্ট সরকারি নীতি ছিল না। তার জন্য নতুন আইন তৈরিরও প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই এই ড্রাফট পলিসি তৈরি করা হয়েছে। তাতে যে কেউ তাঁর নিজস্ব মতামত জানাতে পারবেন।

    ড্রেনের জলকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে রাজ্য সরকার যে খসড়া নীতি প্রণয়ন করেছে, তাতে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি তদরাকির জন্য মুখ্যসচবিরে নেতৃত্বে রাজ্যস্তরে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, পরিবেশ, পিএইচই, এমএলএমই, সেচ ও জল অনুসন্ধান, পুর ও নগরোন্নয়ন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সচিবরা। যাঁরা মূলত নীতি নির্ধারণের কাজ করবেন। তার সঙ্গে থাকবে একটি স্টিয়ারিং কমিটি, যার মাথায় থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব। নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।

    দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখাশোনা করা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য সুডার অধীনে একটি ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট সেল’ থাকবে। ওয়েস্ট ওয়াটার রিসাইক্লিং করার পরে সেটা যাতে লোকজন ব্যবহার করেন, এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পসংস্থাগুলিকে সচেতন করার দায়িত্ব নেবে পুরসভাগুলি। প্রয়োজনে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন পরিষদগুলিকে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য তৈরি হবে জিআইএস নির্ভর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম।

    পরিসংখ্যান বলছে, ড্রেনের জল তথা ওয়েস্ট ওয়াটারকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে সবার উপরে রয়েছে ইজ়রায়েল। সে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ ওয়েস্ট ওয়াটারকে রিসাইক্লিং করা হয়। ভারতে সেটা মাত্র ৩ শতাংশ। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে রোজ ওয়েস্ট ওয়াটার রিসাইক্লিং হয় এক হাজার মিলিয়ন লিটার। পশ্চিমবঙ্গে সেটা এক শতাংশেরও নীচে। সম্ভাব্য জলসঙ্কটের কথা মাথায় রেখে তাই ওয়েস্ট ওয়াটার রিসাইক্লিংয়ের কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে চায় নবান্ন।

  • Link to this news (এই সময়)