চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে থাকা এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। সোমবার দুপুরে পশ্চিম চণ্ডীপুর এলাকার বাড়িতেই ঝুলন্ত দেহ মেলে রিনারানি কুন্ডুর (৫০)। রিনার দুই ছেলে—শুভদীপ এবং সৌমেনের নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। পরিবারের দাবি, এ সব নিয়ে কয়েক দিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন রিনা। রবিবার সন্ধ্যার পরে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানা এলাকা থেকেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া (ডিলিটেড) বিক্রম সিংহের (৪৫) ঝুলন্ত দেহ মেলে গাছে। দু’টি ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
রিনা এ দিন বাড়িতে একা ছিলেন। দুই ছেলে সকালে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ জমা দিতে বাদুড়িয়া ব্লক অফিসে যান। ছেলেরা বাড়ি ফিরে দেখেন, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ।। পরে দরজা ভেঙে মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। শুভদীপ বলেন, “চূড়ান্ত তালিকায় মায়ের নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। আমাদের দুই ভাইয়ের নাম বাদ পড়েছে। সে সব নিয়ে মা দুশ্চিন্তা করছিলেন। এসআইআর-এর জন্যই মা অকালে চলে গেলেন।” স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মেহবুব আলম বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যৌথ চক্রান্তে বহু মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।” বিজেপি নেতা পলাশ সরকারের প্রতিক্রিয়া, “তৃণমূল সাধারণ মৃত্যুতে রাজনীতি জুড়ছে।”
চোপড়ার মাঝিয়ালি এলাকায় বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গাছের ডালে বিক্রমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হতে পরিবার দাবি করে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে জানার পর থেকে বিক্রম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সংশ্লিষ্ট দাসপাড়া ১১৮ নম্বর বুথের বিএলও মনোজিৎ শিকদার জানান, ঘটনার কথা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে জানানো হয়েছে। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তৃণমূলের ফজলুর হকের দাবি, “বিজেপির জন্যই এমন হচ্ছে।” বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাইচন্দ্র কবিরাজ পাল্টা বলেন, “মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল।”