স্নেহাশিস নিয়োগী
অ্যাসোসিয়েটেড প্রফেসর থেকে কলেজ প্রিন্সিপাল পদে নির্বাচিত হলে ‘অভিজ্ঞতা’র নিরিখেই তাঁদের বেতন বেশি পাওয়ার কথা। অথচ ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৫–এ সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের অধ্যক্ষ পদে সফল প্রার্থীরা বাড়তি মাইনের বদলে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা কম বেতন পাচ্ছেন! এমনকী, ২০১৫–১৬–তে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষদের মধ্যে যাঁরা এ বছর থেকে আগামী তিন–চার বছরে অবসর নেবেন, তাঁরা প্রাপ্য প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও গ্র্যাচুইটি নিশ্চিত করতে চার থেকে সাত লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেও বাধ্য হচ্ছেন। অথচ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরদের পে–ফিক্সেশন কলেজ কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত করে বিকাশ ভবনে পাঠালেও অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই উল্টো।
কেন এই উলটপুরাণ?
কর্মরত ও অবসরের মুখে থাকা কলেজ অধ্যক্ষদের অভিযোগ, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের (Department of Higher Education) কর্তারা এই প্রসঙ্গে ২০১৮–র ২৭ সেপ্টেম্বরের সিএস ব্রাঞ্চের একটি বিজ্ঞপ্তিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তাতে বলা হয়েছে, নতুন পদে সংশোধিত পে-স্ট্রাকচারে বেসিক পে (পে ব্যান্ড + গ্রেড পে) এমন ভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে তা ঠিক আগের পোস্টের বেসিক পে-র সমান হয় (পূর্বের বেতন সঠিক নিয়মে নির্ধারিত হতে হবে)। বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে, নির্দেশিকা কার্যকর হবে ২০০৬–এর ১ জানুয়ারি থেকে (রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট)। যা নিয়েও বিস্ময় তৈরি হয়েছে অধ্যক্ষ মহলে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলেজ অধ্যক্ষের সংখ্যা ২৫০–রও বেশি।
নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তথা আশুতোষ কলেজের (Ashutosh College) অধ্যক্ষ মানস কবি বলেন, ‘আমি কলেজে বাংলার শিক্ষকতা করলে যা বেতন পেতাম, অধ্যক্ষ হওয়ায় তার চেয়ে কম পাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা শিক্ষকতা করার পরে অধ্যক্ষ হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন। অধ্যক্ষরা কোনও পে–প্রোটেকশনই পাচ্ছেন না। যা দুর্ভাগ্যের।’ আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের অধ্যক্ষ সমীরণ মণ্ডলের কথায়, ‘আমাদের কলেজের এক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরের বেসিক পে ছিল মাসিক ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ২০২৫–এ তিনি হাওড়ার শোভারানি মেমোরিয়াল কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। বিকাশ ভবনের আধিকারিকরা তাঁর বেসিক পে ফিক্সেশন করেছেন অধ্যক্ষ পদের ন্যূনতম বেসিক ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকায়। ফলে তিনি মাসে বিপুল টাকা গুনাগার দিতে বাধ্য হচ্ছেন।’ চলতি বছরেই অবসর নেওয়া শহরতলির এক কলেজ অধ্যক্ষা বলেন, ‘অবসর পরবর্তী জীবন শান্তিতে কাটাতে ইতিমধ্যে পাঁচ লাখ টাকা ট্রেজারিতে জমা দিয়েছি।’
যদিও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘এই সমস্যা নিয়ে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে ফাইল চালাচালি চলছে। তবে যতক্ষণ না সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ মন্তব্য করতে পারব না।’ যা শুনে অবসরপ্রাপ্ত ও অবসরের মুখে থাকা অধ্যক্ষরা বলছেন,‘আমরা তো চাকরি থেকে রিটায়ার করার আগেই পাওনা থেকে মোটা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছি। আমরা সেই টাকা ফেরত পাব কী করে?’