অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান (NCERT Class Eight Social Science Book) বইয়ে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’-র উল্লেখ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নজরে বিষয়টি আসতেই জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার পরে অবশেষে সর্বসমক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি (National Council of Educational Research and Training)। একইসঙ্গে বইটি প্রত্যাহার করার কথাও জানিয়েছে সংস্থা।
সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে NCERT স্বীকার করেছে যে, ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড - গ্রেড 8 (Exploring Society: India and Beyond – Grade 8) শীর্ষক বইটিতে আমাদের সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা নামে একটি চতুর্থ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই অধ্যায় অযোগ্য। উক্ত ওই অধ্যায়ের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছে কাউন্সিল।’ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, NCERT-র ডিরেক্টর ও সমস্ত সদস্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বইটি বাজার থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোনও স্কুলেই এই বিতরণ করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে NCERT। ক্ষমা প্রার্থনার বিবৃতিতে বই প্রত্যাহারের কারণ নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না করা হলেও কাউন্সিল জানিয়েছে উপযুক্ত সংশোধনের কাজও করা হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ,‘NCERT এই অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সকল স্টেকহোল্ডারদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
প্রসঙ্গত, উল্লেখিত বইয়ে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ নিয়ে একটা আস্ত অধ্যায় রেখেছিল NCERT। ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রবল ক্ষুব্ধ হন শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি। বইটিকে আগেই নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে যে বইগুলি বিক্রি হয়েছে, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। বিতর্কিত এই অধ্যায় লেখার পিছনে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের দাবি, বিচার ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করতে এটা ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’।
অভিযোগ, ওই অধ্যায়ে সরাসরি লেখা ছিল, বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত। শুধু তাই নয়, লক্ষ লক্ষ মামলা জমে থাকার জন্য দায়ী করা হয়েছিল বিচার ব্যবস্থার ঢিলেমিকে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং NCERT-র বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে আদালত অবমাননার মামলা।