• অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: গত অক্টোবরে পুরুলিয়ার শিমুলিয়া ময়দানের সামাজিক সভা থেকে তাঁরা স্লোগান তুলেছিলেন, ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ (No Vote Too Tmc)। গত ফেব্রুয়ারিতে কোটশিলার একটি সামাজিক জমায়েতের মঞ্চ থেকেও আদিবাসী কুড়মি সমাজ ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল সম্পর্কে তাদের যে অবস্থান ছিল, সেই অবস্থানেই তারা অনড় রয়েছে। এই আবহে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Union Home Minister Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা। এ দিন দিল্লিতে সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    বৈঠকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো, সংগঠনের সভাপতি শশাঙ্ক মাহাতো, সহ–সভাপতি সঞ্জয় কুমার মাহাতো, কার্যকরী কমিটির সদস্য শশধর মাহাতো, কমলেশ মাহাতো ও প্রেমচাঁদ মাহাতো উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং রাজস্থানের একজন সাংসদও। পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের প্রাক্তন মুলুকদার রাজেশ মাহাতো, যিনি গত ১ মার্চ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনিও এই বৈঠকে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা ভোট যখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে, তখন তৃণমূল–বিরোধী অবস্থানে অনড় আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতৃত্বের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক ঘিরে জঙ্গলমহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, জনজাতির স্বীকৃতি, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষার অন্তর্ভুক্তি ও সারনা ধর্মের জন্য পৃথক কোডের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে কুড়মিদের একাধিক সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান আদিবাসী কুড়মি সমাজ। এ দিন বৈঠকের পরে অজিত বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আমরা আমাদের তিনটি দাবির কথাই বলেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস নয়, আমরা আমাদের দাবির মান্যতা চাই। অন্তত কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছি। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তার বিল আনা হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।’ এই বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলে তাঁরা যে রাজ্যের ভোটে সরাসরি বিজেপির হয়ে ময়দানে থাকবেন, সে কথাও জানিয়েছেন অজিত। এ দিনের বৈঠক নিয়ে জ্যোতির্ময়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর ফোন বেজেই গিয়েছে।

    এই বৈঠক সম্পর্কে তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সম্পাদক তথা জেলা চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো এ দিন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই কুড়মিদের এই দাবির সমর্থনে কেন্দ্রের কাছে চিঠি লিখেছেন। তা ছাড়া সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতিকে জুড়ে দেওয়া কতটা সঙ্গত, এই প্রশ্ন তো থাকছেই। আর প্রত্যেকেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে। কোনও সামাজিক নেতা বলে দেবেন আর মানুষ তাকেই ভোট দেবেন, বাংলায় এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)