• বনেটে থাকা যুবককে ৪০০ মিটার টেনে নিয়ে গেল গাড়ি
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: হিট অ্যান্ড রান (Hit and Run)। তিন শব্দের এই বাক্যটি বর্তমানে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে শিলিগুড়িবাসীর (Siliguri) কাছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে শিলিগুড়ি শহরে একাধিক এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার মধ্যরাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সেবক রোডে। ঘটনায় একটি স্কুটারে থাকা তিন তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন অঙ্কিত চৌধুরী নামে এক যুবক। অবশেষে সিকিমের নম্বর থাকা একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে শিলিগুড়ি থানার পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতের নাম কেতন গোয়েল। তিনি শিলিগুড়ির পাঞ্জাবি পাড়ার বাসিন্দা। ধৃতকে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি আদালতে (Siliguri Court) পাঠায় পুলিশ। বিচারক ধৃতের জামিন খারিজ করেছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত রবিবার মাঝরাতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T-20 World Cup) ভারত নিউজিল্যান্ডকে দুরমুশ করে বিশ্বকাপ জিততেই ভেনাস মোড়ে উৎসাহী জনতার ভিড় হয়। জমায়েত ছিল সেবক মোড়, পানিট্যাঙ্কি মোড় এলাকাতেও। পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ সেবক রোডের পাশের একটি গলিতে ঢোকার চেষ্টা করছিল একটি স্কুটার। স্কুটারে ছিলেন তিন তরুণী। সেই স্কুটারটিকে একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি ধাক্কা মারে। এতে স্কুটারটি রাস্তার উপর পড়ে যায়। সে সময়ে রাস্তায় পাশেই ছিলেন অঙ্কিত। তিনি ওই তরুণীদের রাস্তা থেকে টেনে তুলতে যান। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়েন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে যুবক বলেন, "আমি দেখতে পাই গাড়িটি স্কুটার টিকে ধাক্কা মারার পর পালিয়ে যেতে চাইছে। সেই সময়ে গাড়িটি এগোলেই এক তরুণীর পায়ের উপরে চাকা উঠে যেত। কিন্তু আমি সেটা বুঝতে পেরে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেটিকে আটকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু গাড়িটি না থেমে উলটে আমাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    বাধ্য হয়ে আমি গাড়ির বনেটের উপর উঠে শুয়ে পড়ি। সেই অবস্থাতেই আমাকে নিয়ে গাড়িটি ভক্তিনগর থানার দিকে ছুটতে থাকে এবং আমাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হতে থাকে। প্রায় ৪০০ মিটার দূরে এসে গাড়িটি জোরে ব্রেক কষে।’ এতে অঙ্কিত ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। গাড়িটিও পালিয়ে যায়। এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে গাড়িটি এক জায়গায় দাঁড়ায়। সেখানে গাড়িতে থাকা কেতন এবং অন্য এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে একটি দোকানে আইসক্রিম খেতে শুরু করেন। তবে ওই ঘটনার পরে কিছু মানুষ গাড়িটিকে ধাওয়া করে কেতন ও তাঁর সঙ্গীকে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ। কেতনকে ধরতে পারলেও তাঁর সঙ্গী পালিয়ে যান।

    প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার শিলিগুড়িতে এমন ঘটনা ঘটছে? শহরবাসীর অভিযোগ, একশ্রেণির গাড়ির চালক একেবারেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাত হলেই সেবক রোডে ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে এই রাস্তায় বাড়তি নজরদারি চাইছেন মানুষজন। যদিও এই ঘটনাটিকে হিট অ্যান্ড রান বলে মানতে নারাজ পুলিশ। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ট্র্যাফিক) কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, "কিছু মানুষ হিট অ্যান্ড রান শব্দটিকে ব্যবহার করে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ফেলছে। ঘটনায় পুলিশের তরফে দুটি পৃথক মামলার রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’ পুলিশ

    সূত্রে খবর, স্কুটারে চারচাকা গাড়ির ধাক্কা মারে। কিন্তু যতটা বলা হচ্ছে ততটা ঘটেনি। দু’পক্ষই বেসামাল অবস্থায় থাকায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। মদ্যপ চালকদের নিয়ে ডিসিপি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা একটি বিশেষ টিম তৈরি করেছি। দু’জন এসিপি এবং দুজন ওসিকে নিয়ে গঠন হয়েছে এই টিম। এই টিম সেবক রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছে। স্পিড ব্রেকার না বসিয়েও কী করে গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় প্রাথমিক ভাবে সেটা নিয়ে কাজ করছে এই টিম।’ এছাড়াও সেবক রোডের আশপাশে থাকা বিভিন্ন গলি ও রাস্তাগুলিতেও বাড়তি নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)