• দেশে পেয়েছেন ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে ইরানের মহিলা ফুটবলাররা
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশে, তবুও চোখে ছিল ২০২৭ সালে ব্রাজ়িলে হতে চলা ফিফা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন। তাই AFC এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরানের মহিলা ফুটবল টিম। ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে তারা। তবে ফুটবলাররা ফিরতে পারেননি দেশে। কারণ প্রতিবাদের জন্য মিলেছে বিশ্বাসঘাতক তকমা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতের সময়ে চুপ করে থাকেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। তাই বিশ্বাসঘাতক তকমা দেওয়া হয়েছে তাঁদের। এই সংঘাতের আবহে দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। এই কারণেই পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় ইরানের টিম হোটেল থেকে পালিয়েছেন, এমনটাই জানা গিয়েছে।

    প্রিন্স রেজ়া পাহলাভির কমিউনিকেশন অফিস থেকে এই নিয়ে একটি পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতেমা পসন্দিদে, জ়াহরা ঘানবারি, জ়াহরা সারবালি, আতেফা রামাজ়ানজ়াদে ও মোনা হামৌদি এই পাঁচ ফুটবলার পালিয়েছিলেন টিমের ট্রেনিং থেকে। অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় খুঁজছেন তাঁরা। কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে একটি হোটেলে ছিল ইরানের মহিলা ফুটবল টিম। তবে এই পাঁচ ফুটবলারকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিশ। কথাবার্তা চলছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গেও।

    অবশ্য ইরানের ফুটবলারদের সুরক্ষা নিয়ে এগিয়ে এসেছে FIFA-ও। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের মহিলা জাতীয় দলের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাই এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (AFC) এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা।

    ফিলিপিন্সের কাছে হেরে এই টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে গিয়েছে ইরান। সোমবার দেশে ফেরার কথা ছিল দলের। তবে তা আপাতত পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের একটি হোটেলেই রয়েছেন দলের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা। তবে কোনও ব্যক্তি যদি নিজের দেশে ফেরার পরে নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ফুটবল মহলে জল্পনা বাড়ছে।

  • Link to this news (এই সময়)