এই সময়, ব্যারাকপুর: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ব্যারাকপুর মণিরামপুরে তুলসীচরণ অধিকারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় বৃদ্ধেক খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন তৃণমূল কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। এ বার বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা (North Barrackpore Municipality)। ওই বাড়ির মালিক মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে কোন কোন বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে হবে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, বেআইনি অংশ ভাঙা না হলে পুরসভাই তা ভেঙে দেবে। যা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, এই সিদ্ধান্ত পুরসভা আগে নিলে বৃদ্ধের প্রাণ যেত না।
এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার কাউন্সিলার তথা ব্যারাকপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের (Barrackpore Bar Association) সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তুলসীচরণ। অভিযোগ, কাউন্সিলার তাঁকে লাথি মারলে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রবীন্দ্রনাথকেে। এখনও তিনি দমদম সংশোধনাগারে বন্দি। পুরসভার পক্ষ থেকে আগেই বাড়ি মালিক মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিযোগকারী জয়ন্ত অধিকারীকে তলব করা হয়েছিল। বাড়ির প্ল্যান দেখে এবং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুরসভায় বোর্ড মিটিং হয়।
পুরসভার তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই বাড়ির প্রথম তলায় ১৫.৬৮৪ বর্গমিটার, মেজ়েনাইন ফ্লোরে ২.৫৫ বর্গমিটার, দ্বিতীয় তলায় ১৪.২১১ বর্গমিটার বেআইনি ভাবে নির্মিত হয়েছে। সোমবার চিঠি দিয়ে মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই বাড়ির বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন পুরপ্রধান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে সোমবার ব্যারাকপুর আদালতের এসিজেএম (ACJM of Barrackpore Court) মণিকা চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে সশরীরে পেশ করা হয়। এ দিনও তিনি নিজেই তাঁর জামিনের আবেদন করেন। বিচারকের সামনে রবীন্দ্রনাথ বলেন, সোম ও মঙ্গলবার বার কাউন্সিলের ভোটে তাঁকে যেন ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মৃত তুলসীচরণ অধিকারীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টও উল্লেখ করেন। যা শুনে বিচারক উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি একজন অভিযুক্ত। আপনার কাছে কী করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চলে এল?’ এর পরই রবীন্দ্রনাথের হয়ে তাঁর আইনজীবী প্রশান্ত সাহা সওয়াল করতে শুরু করলে তাঁকেও থামিয়ে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ সওয়াল করতে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর মঙ্গলবার সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার আবেদন বিচারক খারিজ করে দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।