এই সময়, হাওড়া: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ চলায় একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম (Commercial gas prices)। শুধু তাই নয়, বাড়তি টাকা দিয়েও সময়ে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার (LPG cylinder)। তার জেরে বিপাকে পড়েছেন ফাস্টফুডের কারবারিরা। বিশেষ করে যাঁরা এগরোল, চাউমিন, বিরিয়ানি বিক্রি করেন কিংবা খাবারের হোটেল চালান, তাঁরা জ্বালানির অভাবে খাবার বানাতে পারছেন না। অনেকেই জানাচ্ছেন, রান্নার গ্যাসের মূল্য যে হারে বেড়েছে, তাতে খাবারের দাম বাড়ানো ছা়ডা আর কোনও বিকল্প রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ করে দাম বাড়ালে বিক্রিবাটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে শাঁখের করাতের উপরে দাঁড়িয়ে ফুডস্টলের মালিকরা।
হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) লাগোয়া ডবসন রোড এলাকায় বহু বছর ধরে এগরোল ও চাউমিনের দোকান চালাচ্ছেন রফিক মোল্লা। তিনি বলেন, ‘সিলিন্ডার পিছু রান্নার গ্যাসের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে বর্তমান দরে খাবার বিক্রি করতে গেলে কোনও লাভ থাকবে না। ঘরের টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। তার থেকেও বড় কথা, এখন সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্ল্যাকে কিনতে গেলে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় ব্যবসা চালানো মুশকিল।’ একই সমস্যার কথা শোনালেন হাওড়া ময়দানের তেলেভাজার দোকানদার শিবু দাস। তেলেভাজা ছাড়াও সকালে দিকে তিনি লুচি বিক্রি করেন। প্রথম থেকেই তিনি গ্যাসে রান্না করেন। কিন্তু গ্যাসের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় তিনি চিন্তায় পড়েছেন। বলেন, ‘আমি যে ব্যবসা করি, সেটা ছাড়া চলবে না। অনেকেই এখন ভাবছেন, কয়লার উনুনে ফিরে যাওয়া যায় কি না। কিন্তু হঠাৎ করে বললেই তো কয়লার উনুন চালু করা যায় না। কেরোসিন তেলও আগের মতো পাওয়া যায় না। ফলে বা়ডতি দাম দিয়েই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাতে খুব সামান্যই লাভ থাকছে। খদ্দের হারানোর ভয়ে দাম বাড়ানোর সাহস পাচ্ছি না।’
আরামবাগ–কলকাতা রাজ্য সড়কের (Arambagh-Kolkata State Highway) পাশে চায়ের দোকান চালান আরামবাগের জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপক ভট্টাচার্য। গ্যাসের দাম বাড়া নিয়ে তিনিও ভীষণ বিচলিত। তাঁর কথায়, ‘গ্যাসের দাম বাড়লেও এখনই চায়ের দাম বাড়াতে পারব না। তা হলে খদ্দের কমে যাবে। গ্যাসের বদলে গুল কিংবা কয়লা ব্যবহার করব, তারও কোনও উপায় নেই। ফলে এখন কম লাভেই ব্যবসা করতে হবে।’ আরামবাগ শহরের পিসি সেন রোডের উপরে পর পর বিভিন্ন দোকান রয়েছে। কেউ চপ, পিঁয়াজি ভাজেন, কেউ আবার ঘুঘনি পরোটা বিক্রি করেন, কেউ সিঙ্গারা ভাজেন। প্রত্যেকেই গ্যাসে রান্না করেন। পরোটা ও ঘুগনি বিক্রেতা নিমাই মান্না বলেন, ‘আমি এক প্লেট ঘুগনি বিক্রি করি ১৫ টাকায়। কখনও সেটা ১০ টাকাতেও বিক্রি করি। পরোটার দাম আট টাকা। সাধারণ মানুষরা আমার দোকানে খেতে আসেন। দাম বাড়ালে হয়তো আমার একটু উপকার হবে, কিন্তু খদ্দের কমে যাবে।’ চপের দোকানের মালিক শান্তা রায় বললেন, ‘ভাবছি গ্যাস বন্ধ করে কাঠের উনুন করব। কিন্তু তাতে পাশের দোকানদাররা আপত্তি করতে পারেন। কী করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’