প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম আন্ডার অ্যাজুডিকেশন (Under Adjudication)। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট ঘোষণার আগে কি ভোট ঘোষণা হবে? ভোট ঘোষণার আগে যদি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ না করা হয়, সে ক্ষেত্রে সেই ভোটারদের কী হবে? মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক বার সেই প্রশ্ন ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু স্পষ্ট জবাব অধরাই রয়ে গেল। কারণ, কৌশলে স্পষ্ট করে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন তিনি।
৮ মার্চ রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। CEC জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের শাসক-বিরোধী, সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেছেন। আজ দিল্লি ফিরবেন জ্ঞানেশ কুমাররা। তার আগে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক। কী নির্যাস উঠে এলে সেই প্রেস মিট থেকে? কী কী কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দিলেন না?
বার বার সাংবাদিকরা জানতে চান, আন্ডার অ্যাজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী? যদি এর মধ্যেই ভোট ঘোষণা হয়, তাঁরা কী করবেন? জ্ঞানেশ কুমারের জবাব, এই প্রসেস চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সবটা করা হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মেনে জুডিশিয়াল অফিসাররা এই ভোটাররা যোগ্য নাকি অযোগ্য সে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সেই মতোই সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোবে। অ্যাপ্রুভাল লিস্ট ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। কেউ যদি ভারতীয় নাগরিক হন, তালিকায় নাম না থাকলে তিনি ফর্ম ৬ ফিলআপ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন।
এখনও অবধি কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা ভোটারের নাম বাদ গেল? SIR আবহে বিজেপি নেতারা বার বার দাবি করেছে, ১ কোটি বাংলাদেশি, রোহিঙ্গার নাম বাদ পড়বে এই SIR পর্বে। এ দিন সাংবাদিকরা সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেই এই প্রশ্ন তোলেন। জ্ঞানেশ কুমারের জবাব, কোন রাজনৈতিক দল কী বলল, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি কী বললেন, কোনও রাজনীতিকের স্টেটমেন্টের জবাব কমিশন দেয় না। নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও আইন মেনে চলে।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, এনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপের পরে কমিশন যখন তা হাতে পেয়েছে, ৪ থেকে ৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের ২০০২ ইলেক্টোরাল রোলে ম্যাপ করতে পারেননি। তাঁদের কমিশন আনম্যাপড বলেছে। প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ নিজেদের ম্যাপ করলেও, কিছু ত্রুটি থেকে গিয়েছে। এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে ERO, AERO হিয়ারিংয়ে ডাকেন। যাঁরা সঠিক নথি দিয়েছেন, তা ঠিকও করে দেওয়া হয়েছে।
আর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR ঘোষণা হলেও শুধু বাংলায় কেন মাইক্রো অবজ়ার্ভার? CEC-র জবাব, বাংলায় ERO, AERO-দের প্রচুর অমীমাংসিত কেস থাকায় মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। স্বচ্ছ ভোটার তালিকার লক্ষ্যেই এই SIR, জানিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।
একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের কড়া বার্তা— কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য। আধিকারিকদের জন্য কড়া বার্তা জ্ঞানেশ কুমারের। গত ৯ ও ১০ মার্চ রাজ্যে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ— সংবিধান ও আইন মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। কোনও ভয় বা প্রলোভনের কাছে মাথা নত করা চলবে না। নির্বাচনের কাজে যুক্ত সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি জানান, DM, SP, CP-দের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনও পক্ষপাত নয়। হিংসা প্রসঙ্গে জ়িরো টলারেন্স নীতি কমিশনের। কোনও অভিযোগ এলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি বুথে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য জেলা স্তরের আধিকারিকদের সরাসরি দায়বদ্ধ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের সাত দিনের মধ্যে EVM পরীক্ষা করাতে পারবেন। ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকবে, ১০০ শতাংশ বুথেই হবে ওয়েব কাস্টিং। কোনও বুথেই ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবেন না। বুথের বাইরে মোবাইল ফোন রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে ফোন রেখে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে হবে। বেরিয়ে সেখান থেকে ফোন নিতে পারবেন। দু’ ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার জানাবেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। ECINET অ্যাপে ও কমিশনের সাইটে ভোটদানের হার আপলোড করা হবে।