এবারের নির্বাচনে ইভিএম-এ কারচুপি করা হবে, আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ মার্চ ২০২৬
একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, মে মাসের পর আদৌ তাঁর নিজের চেয়ারটা থাকবে তো? এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি কর্তা বিজেপির নির্দেশ মতো কাজ করছে। ওই সব অফিসারকে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন পর তো বিজেপি চলে যাবে, তখন কোথায় যাবেন? তখন তো আমি প্রথমেই আপনাদের ট্রান্সফার করব।এদিন ধরনামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে এক বড় অভিযোগ করেছেন।
মমতার অভিযোগ, এরা রাজনৈতিকভাবে বাংলায় কিছুই করতে পারেনি। তাই এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, তিনি খবর পেয়েছেন, এবার ইভিএম-এ কারচুপি করা হবে। তবে সেই কারচুপি রুখতে তৃণমূলও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, এরা গণতন্ত্রে গ্রহণ লাগিয়েছে। এরা সবাইকে গ্রাস করছে। একই সঙ্গে ২০২৬-এর ভোটের নতুন স্লোগান তৈরি করে দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘যতই ডাকো ইডি সিবিআই, ছাব্বিশে ভোটে হবে বাই বাই।’
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার থেকে ধরনায় বসেছেন তৃণমূল নেত্রী। সোমবার সেই ধরনামঞ্চ থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বেচারা ভ্যানিশ কুমার। উনি সব ভ্যানিশ করে দেবেন। ভ্যানিশিং পাউডার। সবাইকে ধমকাচ্ছেন। আজকের বৈঠকে নাকি বাংলার অফিসারদের থ্রেট করেছেন। বলেছেন, মে মাসের পরও অ্যাকশন নেবেন। কিন্তু আমি জানতে চাই, মে মাসের পর আপনি নিজের চেয়ারে থাকবেন তো?’
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের স্পষ্ট জানান, অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র, বোমা, অবৈধ নগদ অর্থ এবং মদের কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালান। আজ রাত থেকেই এমন ব্যবস্থা নিন যাতে আগামী দিনে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের কোনও চিহ্ন না থাকে। জ্ঞানেশ কুমারের এই বক্তব্যকেই কার্যত হুমকি হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেকে মারা গেছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য একটা কথাও বলেননি কমিশনার। কমিশনের এই নীরবতায় অনেক প্রশ্ন ওঠে। তবে কমিশন এর উপযুক্ত জবাব পাবে। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ভোটের আগে কেন আপনারা ভোটের আধিকার কেড়ে নিচ্ছেন? জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এআই দিয়ে ভোটারদের নাম-ঠিকানা কাটছেন। আপনার ব্রেনও ওই এআই খাবে।’
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি মানুষের ভোটে জিততে চান তাহলে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। আমরা এর বেশি কিছু চাই না। কারণ, যাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তাঁরা তো সবাই ভারতীয়। এ রাজ্যের মানুষ কিন্তু মাথা নত করবে না।সরাসরি নাম না করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ নিজেকে ‘সুপার গড’ বা স্পাইডারম্যান ভাবছে। যা ইচ্ছে তাই করছে। কোনও ব্যক্তি নিজেকে সর্বশক্তিমান ভেবে যা খুশি করার চেষ্টা করলে সেটা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলেও মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, কোনও সাংবিধানিক পদ বা চেয়ারকে অসম্মান করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়।
এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির কর্তাদেরও একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অফিস তো পার্টি অফিস হয়ে গিয়েছে। ওরা বিজেপির ইশারায় চলছে। বদলির ভয়ে ওরা এই কাজ করছে। কিন্তু চাকরিটা আমিই দিয়েছিলাম। সেটা আমি জানি। যারা আজ এই কাজ করছেন, সেই রেকর্ড কিন্তু থেকে যাচ্ছে। আজ বিজেপি আছে, তাই আপনি ট্রান্সফার হবেন না। কিন্তু কাল তো বিজেপি চলে যাবে। তখন আপনি কোথায় যাবেন? তখন তো সবার আগে আমি আপনাকে ফার্স্ট ট্রান্সফার করব।’