সোমবার সকালে কমিশনের প্রতিনিধিরা কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নিউটাউনের একটি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রাজ্যের আইজি-ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ২৪টি সংস্থার নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে প্রথমে বেলুড় মঠে পুজো দিতে যাবেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। এরপর নিউটাউনের হোটেলে রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী–সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জ্ঞানেশ। পরে দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করবেন কমিশনের প্রতিনিধি দল। এই সাংবাদিক বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ।
ঘটনাচক্রে, এদিনই দ্বিতীয়ার্ধে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চে মামলাটি উঠবে। ভোটার তালিকার প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নাম সংক্রান্ত ইস্যুতে এদিনের শুনানিতে সওয়াল করবে তৃণমূল। বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। তৃণমূলের পাশাপাশি বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ এ নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। শাসকদলের দাবি, এই নামগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোটাধিকার বজায় রেখেই নির্বাচন ঘোষণা করা উচিত। অন্যদিকে বামেদের মত, ভোটার তালিকায় অস্পষ্টতা রেখে নির্বাচন করা উচিত নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের বৈঠকগুলি অনেকটাই প্রথামাফিক হলেও ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার সমাধান অনেকটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির উপর। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কয়েক জন ব্যক্তির দায়ের করা নতুন আবেদন বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মামলাকে এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী মেনেকা গুরুস্বামী। আজ, এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার সঙ্গে এই মামলাটিও শুনবেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের স্ক্রুটিনি করছেন বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। এর আগে দুই বার তৃণমূলের একাধিক যুক্তি ও ব্যাখ্যায় সিলমোহর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে একাধিক বিষয়ে তৃণমূলের দাবিই সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্ব পেয়েছিল। বিএলএদের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া থেকে শুরু করে নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা, মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষমতা সীমিত করা কিংবা ইআরওদের হাতে অধিক ক্ষমতা দেওয়া— প্রায় সব ক্ষেত্রেই শাসকদলের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্তই দেখা গিয়েছিল শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে।