• রান্নার গ্যাসের সঙ্কট কাটাতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন জারি কেন্দ্রের, এর অর্থ কী?
    এই সময় | ১০ মার্চ ২০২৬
  • যুদ্ধের জেরে হেঁশেলের আঁচ বন্ধের আশঙ্কা। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে আচমকা হাহাকারের পরিস্থিতি দেশের একাধিক জায়গায়। মেট্রো শহরের একাংশের একাধিক রেস্তোরাঁ-হোটেলে ঝাঁপ পড়ার পরিস্থিতি। রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়তেই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রের। গেজ়েট বিজ্ঞপ্তি জারি করে কার্যকর করা হলো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫ (Essential Commodities Act)। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এই পদক্ষেপ।

    সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর অগ্রাধিকার লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (Liquefied Petroleum Gas) উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন হলো এমন একটি আইন যা দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত জিনিসপত্রের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দেয় সরকারকে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি, সার এবং ওষুধ।

    কোনও সঙ্কট বা ঘাটতির সময়ে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হস্তক্ষেপ করতে পারে সরকার। অবৈধ মজুত রোধ করতে এবং কালোবাজারি রোখার জন্যেও পদক্ষেপ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। মূলত, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে কোম্পানিগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যগুলি কোনও বাধা ছাড়াই উপভোক্তাদের কাছে সহজলভ্য করার ব্যবস্থা করতে পারে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ স্থিতিশীল ব্যবহার হয় এই আইন।

    এ দিন কেন্দ্রের নির্দেশের পরে নতুন নিয়মের আওতায়, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস আগে পাঠানো হবে LPG, CNG এবং পাইপ্‌ড কুকিং গ্যাস প্রস্তুতকেন্দ্রগুলিকে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এলপিজি প্রস্তুত কেন্দ্রগুলিও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে। সাধারণত এই প্রাকৃতিক গ্যাসের সিংহভাগ ব্যবহার করে CNG এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস।

    পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুদ্ধ (War In West Asia) পরিস্থিতির জেরে ইরান হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল আটকে দিয়েছে। ফলে আটকে পড়েছে ভারতে জ্বালানি সরবরাহকারী বহু ট্যাঙ্কার। সার্বিক ভাবে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। সূত্রের দাবি, ভারতের লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) (LNG) সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্তত ৬০ শতাংশই আমদানি হয় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। আবার ‍লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি হয় মূলত সৌদি আরব থেকে। ভারতের মোট চাহিদার ৮০–৮৫ শতাংশ LPG আসে হরমুজ় প্রণালী হয়েই। তাই হরমুজ় প্রণালী বন্ধের জেরে স্বাভাবিক ভাবে সেই আমদানিও ধাক্কা খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের জোগানে যাতে কোনও ঘাটতি না পড়ে তাই প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র।

  • Link to this news (এই সময়)