এই সময়, সাগরপাড়া
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে খুনের (Murder of a Student) ঘটনার ৪৬ দিন পরে পুলিশের জালে ধরা পড়ল নিহত কিশোরের খুড়তুতো দাদা। ধৃত যুবক বাপি মণ্ডল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের সাগরপাড়া থানার পাঁজরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সাগরপাড়া পুলিশ রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার ধৃতকে মুর্শিদাবাদ সিজেএম আদালতে (Murshidabad CJM Court) হাজির করানো হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯ জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সাহিন মণ্ডল। ২০ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি পেঁয়াজ খেত থেকে সাহিনের গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। সাহিনের পরিবারের এক সদস্য জানান, দেহ উদ্ধারের পরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য সাহিনের বাড়িতে এসে শোকপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল বাপিকে। এমনকী, অভিযুক্ত বাপি দেহ আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সবার সামনে। তাই এই ঘটনায় বাপির জড়িত থাকার কথা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না। নিহতের বাবা রমজান আলি মণ্ডল বলেন, 'পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপির কথায় ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, পুলিশের জেরার মুখে অত্যন্ত কৌশলে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। পুলিশের তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার বলেন, 'ঘটনার পর থেকে বাপির আচরণ ও গতিবিধির উপরে পুলিশের নজর ছিল। দেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে খুনের সঙ্গে ওই যুবকের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তার পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।'
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাপির স্ত্রীর সঙ্গে সাহিনের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তিনি পথের কাঁটা দূর করতে সাহিনকে গলা কেটে খুন করেছেন। কিন্তু নিজে খুন করেছেন, নাকি কাউকে খুনের সুপারি দিয়েছিলেন, তা পুলিশ এখনও জানতে পারেনি। অন্য কোথাও খুন করে কি দেহ পেঁয়াজ খেতে রেখে আসা হয়েছিল? সে ক্ষেত্রে একা দেহ বয়ে এনেছিলেন, নাকি কেউ সাহায্য করেছিল? ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, 'ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরার মাধ্যমে খুনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।'