• ‘সময় এসে গিয়েছে…’, বাতিল হবে শরিয়ত আইন? অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ১১ মার্চ ২০২৬
  • বাতিল হবে শরিয়ত আইন? মঙ্গলবার গোটা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বা UCC কার্যকর করার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে খবর, ১৯৩৭ সালের শরিয়ত আইনের কয়েকটি বৈষম্যমূলক ধারা বাতিলের দাবিতে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দেশে এখন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC কার্যকর করার সময় এসে গিয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সংবাদ সংস্থা PTI জানিয়েছে, বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যদি শরিয়তের উত্তরাধিকার আইন বাতিল করে হয়, তবে একটি বড় আইনি শূন্যতা তৈরি হবে। কারণ মুসলিমদের উত্তরাধিকার পরিচালনার জন্য বর্তমানে আলাদা কোনও বিধিবদ্ধ আইন নেই।

    মামলাকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘সংস্কারের প্রতি আমাদের অতিরিক্ত উদ্বেগের বশবর্তী হয়ে আমরা হয়তো তাঁদের (মুসলিম মহিলাদের) অধিকার থেকে আরও বঞ্চিত করে ফেলব। এখন তাঁরা যেটুকু পাচ্ছেন, তার থেকেও কম পেতে পারেন। যদি ১৯৩৭ সালের শরিয়ত আইন তুলে নেওয়া হয়, তবে কী হবে? এটি কি একটি অপ্রয়োজনীয় শূন্যতা তৈরি করবে না?’

    PTI সূত্রে খবর শুনানিপর্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, বৈষম্যের অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলাকারীদের যুক্তিটি অত্যন্ত জোরালো। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের কি এই বিষয়টি আইনসভার প্রজ্ঞার উপরে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়? কারণ সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy) অনুযায়ী অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আইনসভারই রয়েছে।

    এই পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এর উত্তর হলো ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি।’

    বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, ‘এক পুরুষের এক স্ত্রী’ নীতিটি সব সম্প্রদায়ের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘তার মানে কি আদালত সমস্ত বহুগামিতাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে? নির্দেশমূলক নীতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আইনসভার ক্ষমতার উপরে নির্ভর করতে হবে।’

    PTI সূত্রে খবর, শুনানির শুরুতেই মামলাকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, মুসলিম মহিলারাও পুরুষদের মতো সমান উত্তরাধিকারের যোগ্য— আদালত এই মর্মে একটি ঘোষণা করুক। তাঁর যুক্তি ছিল, আদালত যদি ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট বাতিল করে, তবে সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই ‘ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন’ (Indian Succession Act) প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত এখনই সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে বল ঠেলে দিয়েছে আইনসভার কোর্টেই। এখন দেখার, শীর্ষ আদালতের এই বার্তার পরে কেন্দ্রীয় সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কী পদক্ষেপ করে।

  • Link to this news (এই সময়)