ধর্মতলায় ধর্না প্রত্যাহারের পরেই আলিপুরে সরকারি অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সৌজন্যেই রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। মঙ্গলবার সন্ধেয় সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সাক্ষাৎ-পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানান, সিভি আনন্দ বোসের প্রতি যা হয়েছে ‘অন্যায়, ইনজাস্টিস’।
আগামিকাল, বুধবারই ফিরে যাচ্ছেন সিভি আনন্দ বোস। মমতা বলেন, ‘ওঁর সঙ্গে অনেক দিন একসঙ্গে কাজ করেছি। ওঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্কই ছিল। বাংলার শিষ্টাচার হিসেবে শুভকামনা করি। তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। পাঁচ বছরের সময় থাকলেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। দেড় বছর আগে, ভোটের মুখে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া, আমি মনে করি এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার মনের কথাটা আমি ওনাকে বলে এসেছি। আমি অনুরোধ করেছি আপনি বাংলায় এতদিন ছিলেন, বাংলাকে ভালো বোঝেন। বাংলায় আবার আসুন।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে দিন সিভি আনন্দ বোস দিল্লি যান, সে দিন বোসের আসলে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে বাগডোগরা যাওয়ার কথা ছিল। সরকারি ফ্লাইটেই যাওয়ার কথা ছিল। মমতা বলেন, ‘আমরা সরকারি ফ্লাইট দিয়ে রেখেছিলাম, উনি বুকিংও করেছিলেন। বাগডোগরাতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বার্তা দেওয়া হলো, বাগডোগরা না গিয়ে দিল্লি যাওয়ার।’
রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে সিভি আনন্দ বোস আর রাজভবনে যাননি। মমতা জানান, কলকাতায় ফিরে হোটেলে থাকতে চেয়েছিলেন। নিজের মর্যাদার কথা ভেবেই রাজভবনে যেতে চাননি আনন্দ বোস। এর পরেই মমতা সৌজন্যে থাকার অনুরোধ করেন। মমতা বলেন, ‘তিনি হোটেলে থাকতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, আমাদের সৌজন্য রয়েছে। বিশেষ ব্যক্তিত্ব, ডিপ্লোম্যাটরা থাকেন। আপনি সেখানে অতিথি হিসেবে থাকুন।’