বল ভেবে বাজিতে (Firecrackers) আগুন। প্রবল বিস্ফোরণে (Blast) গুরুতর জখম হলেন লক্ষ্মীকান্ত মাঝি (২২) নামে এক যুবক। সোমবার দুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) গুড়গুড়িপাল থানার নেপুরা গ্রামের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জখম লক্ষ্মীকান্তকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় কলকাতার হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আপাতত তাঁকে ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে ভর্তির তোড়জোর চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপুরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তি মাঝি পেশায় দিনমজুর। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তাঁর বছর এগোরোর ছেলে বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে বল ভেবে একটি বোমা কুড়িয়ে আনে। সেটা চোখে পড়ে মুক্তির শ্যালক লক্ষ্মীকান্তর। তিনি হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন, এটা বল নয় বাজি। সেটা রোদে শুকোতে দেন তিনি। সোমবার দুপুরে মামা-ভাগ্নে মিলে বাজিতে আগুন ধরান। তার পরেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। হাতে চোট পান লক্ষ্মীকান্ত। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতায়। তবে পরিবারের অভিযোগ, কলকাতার হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। তাই লক্ষ্মীকান্তকে তাঁরা চিকিৎসার জন্য ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। BJP-র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায়ের দাবি, ওটা বোমাই ছিল। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে মাঠে-ঘাটে এভাবেই বোমা পড়ে থাকে! নির্বাচনের আগে ওরা বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই বোমা মজুত করছে।’ তবে এটা বোমা নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শুভেন্দু বিকাশ জানা। তাঁর কথায়, ‘ওই মাঠে কিছুদিন আগে কালীপুজো ছিল। বাজি ফাটানো হয়। কোনও বাজি হয়তো কেউ ফেলে গিয়েছিল।’ ওই এলাকা যথেষ্ট শান্ত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বাজি ফেটেই এমন কাণ্ড ঘটেছে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরাও। এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘বাজি থেকেই ওই যুবক হাতে চোট পেয়েছেন বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। তা সত্ত্বেও বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’