এলপিজি রান্নার গ্যাসের ভাঁড়ারে টান। হোটেলগুলি এ বার ফিরছে কাঠ-কয়লা-উনুনে। আমেরিকা ও ইজ়রায়েল-ইরানের সংঘাতে এ বার টান পড়ছে জ্বালানিতে। হুগলির চুঁচুড়ার একটি হোটেল, সেখানে মূলত হোম ডেলিভারির খাবার তৈরি হয়। প্রতিদিন সেখান থেকে শতাধিক প্লেট খাবার যায়। গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস বুকিং করলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। হোটেল মালিক জানালেন, এখন উনুন-কয়লা ফিরেছে হেঁশেলে।
চুঁচুড়ায় হোম ডেলিভারির হোটেল চালান গোবিন্দ বারিক। তিনি বলেন, ‘প্রায় চার দিন ধরে গ্যাস আসছে না। বাধ্য হয়ে কয়লার ব্যবস্থা করতে হলো। আমার থেকে বহু মানুষ হোম ডেলিভারি নেন। বহু বয়স্ক লোকজন আছেন। সকাল ন’টা থেকে বেলা আড়াইটে তিনটে অবধি খাবার যায়। বাধ্য হয়ে কয়লা জ্বালিয়ে এখন রান্না করছি।’
এই দোকান থেকেই খাবার নেন সুমনা সাহা। এ ভাবে রান্নার গ্যাসের সমস্যা নিয়ে বিরক্ত তিনি। সুমনা বলেন, ‘রাজনীতি যাঁরা করেন, এই ব্যাপারগুলো যদি দেখেন একটু সুবিধা হয়। এ ভাবে গ্যাসের দাম রাতারাতি বাড়িয়ে দিল। সাধারণ মানুষের কথা তো রাজনীতি করে যারা, তাদেরই ভাবতে হবে।’
ওই হোটেল থেকে খাবার নেন পার্থ সাহা। তাঁর চিন্তা, এ বার খাবারের দাম না বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এ ভাবে গ্যাসের দাম বাড়লে খাবারের দামও তো বাড়াবে হোটেলগুলি। আর সে চাপ তো আমাদের পকেটেই পড়বে।’
একাধিক মেট্রো শহরে সিলিন্ডার সঙ্কটে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলি। শহরতলির ছবিও এক।যদিও কোনও রকম সমস্যার কথা মানতে নারাজ কেন্দ্র। মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। সরকারি সূত্রে খবর, তেল শোধনাগারগুলি পূর্বে জারি করা নির্দেশ অনুসরণ করে LPG উৎপাদন প্রায় ১০% বৃদ্ধি করেছে।
তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ ঠিক রাখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। দু’ দিন আগে যা ২১ দিন ঘোষণা করা হয়েছিল।