• মমতার 'একটা কমিউনিটি' মন্তব্য কি বিজেপির পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা?
    আজ তক | ১১ মার্চ ২০২৬
  • এসআইআর ধর্নায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য কি ভোটের আগে বিজেপির হাতে হাতিয়ার তুলে দিল? জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। মমতা বলেছেন,'একটা কমিউনিটি জোট বাঁধলে এক সেকেন্ডে বারোটা বাজিয়ে দেবে'। কারও নাম নেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে ভোটের মুখে এমন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গায়ে আরও একবার তোষণের রাজনীতির তকমা সেঁটে দিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু তো বটেই, দিল্লিতে সংবাদিক বৈঠক করে মমতাকে নিশানা করেছে। এআইএমআইএম নেতা আকবরউদ্দিন ওয়েসির সঙ্গে মমতার তুলনা পর্যন্ত টেনে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র।  

    এসআইআর ধরনায় ঠিক কী বলেছেন মমতা? সোমবার তৃণমূল নেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের জবাব দিচ্ছিলেন। সেই সঙ্গেই যোগ করেন,'আমরা আছি বলে না আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি কোনওদিন, একটা কমিউনিটি জোট যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে একদম বারোটা বাজিয়ে দেবে। নিজেদের তেরোটা বাজাতে না চাইলে বিজেপির অপপ্রচারে ভুল বুঝবেন না'।

    এই একটা কমিউনিটি বলতে মমতা কাদের বুঝিয়েছেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেননি। তবে ভোটের মুখে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো ইস্যু পেয়ে গিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, একটা কমিউনিটি বলতে রাজ্যের মুসলিমদের বুঝিয়েছেন নেত্রী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়,'উনি মনে হয় জানেন না উল্টো দিকে কমিউনিটিটা জোট বেঁধেছেন। উনি মুসলিমদের কথা বলছেন। সেই মুসলিম কমিউনিটি এখন হুমায়ুনের পিছনে জোট বেঁধেছে। উনি যাঁদের বলছেন, বাড়ি থেকে বেরোতে পারবে না, তারাও জোট বেঁধেছে। সাম্প্রদায়িক কথাবার্থার এই মুখ্যমন্ত্রীর মুখেই সাজে। ২০২১ সালে সিএএ-কে এনআরসি বলে অপ্রচার করেছেন। হুমায়ুন কবীরও স্বীকার করেছেন তাঁকে দিয়ে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী'।   

    গোটা বিষয়টিকে মেরুকরণের রাজনীতি হিসেবে দেখছেন কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী। তিনি বলেন,'বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। নরম সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেন মমতাও। সংখ্যাগুরুদের নিয়ে রাজনীতি করে। তেমনই সংখ্যালঘুদের রুটি-রুজি শিক্ষা নিয়ে কোনও কাজ করেননি, খালি রাজনীতি করেন। আরএসএসের নির্দেশেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছেন মমতা। নিজেরাই ভাগ করে নিয়েছেন। মমতা খাদের কিনারায়। এসআইআর আন্দোলনে রাহুলের পাশে ছিলেন না। ওঁর এসআইআর রাজনীতি ব্যুমেরাং হয়েছে। সেটা বুঝেই এখন কোন তাস খেলবেন, সেটা বুঝতে পারছেন না।' 

    সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর কথায়,'লোকসভা ভোটের আগে একটি সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাবশিষ্য হুমায়ুন কবীর। বিধানসভা ভোটের আগে নেত্রীও সম্প্রদায়ের নাম না করে একই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এটা বিপদ'।
  • Link to this news (আজ তক)