• ২০২৯ ভোট থেকেই মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণ?
    এই সময় | ১১ মার্চ ২০২৬
  • অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি

    দেশের আইনসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে তিন বছর আগে অর্থাত্‍ ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয়েছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল৷ ২০২৩–এর ২৮ সেপ্টেম্বর এই বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি৷ তার পর থেকে এই আইন বাস্তবায়িত হয়নি, তার বিধিও তৈরি হয়নি৷ কারণ মোদী সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, দেশে জনগণনা এবং লোকসভা-বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হওয়ার পরেই এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হবে৷ পূর্বনির্ধারিত এই নীতি থেকে সরে এসে এখন মোদী সরকারের পরিকল্পনা হলো ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই লোকসভা এবং বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা।

    সূত্রের খবর, এই মর্মেই সংসদের চলতি অধিবেশনে আরও একবার সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে উদ্যোগী হয়েছে মোদী সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরের কয়েকটি প্রভাবশালী দলের সংসদীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্ত আলোচনাও করা হয়েছে৷ ‘ ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’ নীতি নিয়ে পরিচালিত এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু, বিরোধীদের সব দলকে এই সংবিধান সংশোধনী বিলে পাশে পাওয়া৷ পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম এবং পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে রাজনৈতিক মহলে৷ এই মর্মেই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে নিশানা করে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের কটাক্ষ, ‘এটা বিজেপি এবং মোদী সরকারের আর একটা জুমলা! পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে মহিলাদের মন পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছে বিজেপি৷ তিন বছর আগে বিল প্রণয়ন করার সময়ে কেন দ্রুত এই সিদ্ধান্ত লাগু করার কথা ভাবা হয়নি ? ’

    বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগকে নিশানা করলেও সরকারি সূত্রে অন্য ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এক বিজেপি সাংসদের যুক্তি, ‘দু’দফায় আমাদের দেশে জনগণননার কাজ করা হবে৷ তা শেষ করার পরে শুরু হবে আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ৷ সব কাজ শেষ করতে করতেই ২০২৯ পেরিয়ে যাবে৷ এই পরিস্থিতিতে ২০২৯ সালকে ভিত্তি বছর হিসেবে বেছে নিয়ে সেই সময় থেকেই সারা দেশের আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? এই সংক্রান্ত বিল আগেই পাশ হয়েছে সংসদে৷ এখন শুধু তার সময়সীমা পরিবর্তন সংক্রান্ত সংশোধনী যদি নিয়ে আসা হয়, তাহলে সেই সংশোধনীকে অবশ্যই বিরোধীদের স্বাগত জানানো উচিত৷’

    উল্লেখ্য, সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরেই সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আভাস দিয়েছিলেন সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে অত্যম্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘ক্রিটিক্যাল’ একটি বিল আনতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার৷ মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভাবনার সঙ্গে রিজিজুর দাবির কোনও মিল আছে কি না, তা বোঝা যাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই, এমনই দাবি সংসদীয় সূত্রের৷ এই বিলকে কেন্দ্র করে সরকারের তরফে বিরোধীদের কাছে কোনও সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করেই এক বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ ইস্যুতে দ্রুততা আনার লক্ষ্যে বিরোধীদের বিবেক জাগ্রত হবে এই আশা আমরা রাখতেই পারি৷’ বর্তমানে অষ্টাদশ লোকসভায় ৭৪ জন মহিলা সাংসদ রয়েছেন, মোট সাংসদদের হিসেবে প্রায় ১৪ শতাংশ৷ লোকসভায় তৃণমূলের মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ১১, সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে দলের মোট সাংসদের ৩৮ শতাংশ৷ বিজেপির মহিলা সাংসদদের সংখ্যা মাত্র ১৫ শতাংশ!

  • Link to this news (এই সময়)