• যুদ্ধের আঁচ শহরতলির বিরিয়ানির প্লেটেও, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মিলছে না, আদৌ চলবে ব্যবসা?
    এই সময় | ১১ মার্চ ২০২৬
  • অশীন বিশ্বাস, ব্যারাকপুর

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে গৃহস্থের হেঁসেলে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই সমস্যায় পড়েছেন শহরতলির প্রসিদ্ধ বিরিয়ানি দোকানের মালিক থেকে একাধিক রেস্তোরাঁ মালিকরা। বিকল্প চিন্তাভাবনার কথা ভাবলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে সে নিয়েও তাঁরা সংশয়ে।

    ব্যারাকপুরের সঙ্গে বিরিয়ানি যেন সমার্থক। শহরের প্রধান প্রধান জায়গা থেকে অলিগলি, বিরিয়ানি দোকানের ছড়াছড়ি। নামকরা ব্র্যান্ডের বিরিয়ানি থেকে ফুটপাথের বিরিয়ানি, চাহিদা মতো কোনওটারই অভাব নেই। বিরিয়ানি জগতে বিখ্যাত ব্যারাকপুরের স্টেশন লাগোয়া একটি রেস্তোরাঁ। ব্যারাকপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে বেরোলেই নজরে আসবে বিশাল ওই বিরিয়ানির দোকান। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাহিদা অনুযায়ী বিরিয়ানির সঙ্গে একাধিক ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ আইটেমও সেখানে চালু হয়েছে। ব্যারাকপুরে দু’টি এবং সোদপুরেও তাদের একটি আউটলেট রয়েছে। সব মিলিয়ে কাজ করেন প্রায় ৬০০ জন।

    যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে প্রসিদ্ধ এই বিরিয়ানি দোকানের হেঁসেলেও। তিনটি আউটলেট চালাতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দোকানের কর্ণধার সঞ্জীব সাহা৷ দিনে যেখানে ২৮-৩০ টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার তাঁদের লাগে, সেখানে মঙ্গলবার অনেক কষ্টে পাঁচটি সিলিন্ডার তাঁরা জোগাড় করতে পেরেছেন। ফলে কী করে তিনটি রেস্তোরাঁ একসঙ্গে চালু রাখতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান সঞ্জীব। গ্যাসের জোগান না পেয়ে যদি দোকানের কিছু আইটেম কমিয়ে দিতে হয়, সে ক্ষেত্রে কর্মচারীদের কী হবে? এ সব নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে বিরিয়ানি আইটেম চালু রাখার জন্য বিকল্প হিসেবে কাঠ কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবলেও তা কতটা শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে তা বুঝতে পারছেন না কেউই।

    আবার ইন্ডিয়ান, চাইনিজ আইটেম চালু রাখার জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ওভেনের কথা চিন্তায় আনলেও সেটিরও কার্যকারিতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই বিরিয়ানি কর্ণধার। সঞ্জীব সাহা বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছি। এতদিন একটা সেটআপে চালাচ্ছিলাম৷ সেই সেটআপ ভেঙে এখন যদি নতুন ভাবে কাজ করতে গেলে বাড়তি খরচ। করোনার সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে৷’ ব্যারাকপুর ওয়ারলেস মোড়ে রয়েছে আর একটি প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির দোকান। একটি নাম থেকে আরও একটি নাম দিয়ে বারাসত, মধ্যমগ্রাম, সোদপুর মিলিয়ে মোট চারটে আউটলেট রয়েছে তাদের। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কর্মচারী কাজ করেন।

    গ্যাস সে ভাবে পাওয়া না যাওয়ায় চাহিদার সঙ্গে কী ভাবে জোগান দেবেন তা নিয়ে তারাও দুশ্চিন্তায় পড়েছে। চারটি আউটলেট মিলিয়ে গড়ে ১৬-১৭টা বাণিজ্যিক সিলিন্ডার আগে একজন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে নেওয়া হলেও, এখন ২-৩ জন ডিস্ট্রিবিউটরের থেকে মঙ্গলবার ১০টির বেশি সিলিন্ডার তারা জোগাড় করতে পারেনি। সিলিন্ডার পিছু ৭০০-৭৫০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দোকানের কর্ণধার অনির্বাণ দাস। তাঁর কথায়, ‘আমাদের বিরিয়ানি কাঠেই হয়। ফলে সে দিকে খুব একটা দুশ্চিন্তা নেই। কিন্তু চাইনিজ, ইন্ডিয়ান আইটেম কী ভাবে চালু রাখব জানি না।’

    যা পরিস্থিতি তাতে বিরিয়ানি থেকে অন্যান্য খাবারের দাম একই রাখলেও প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৬-১৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। অনির্বাণ বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক ওভেনের কথা মাথায় থাকলেও তা করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ। ফলে চাইলেই যে নতুন সেটআপ করে নিতে পারব এমনটা নয়। তাই আপাতত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা ছাড়া বিকল্প আর কোনও উপায় নেই।’ একই অবস্থা অন্যান্য রেস্তোরাঁ মালিকদেরও।

  • Link to this news (এই সময়)