এই সময়, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নায় বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। ২০২৩–এ এক বিজেপি নেতাকে খুনের মামলায় নোটিস পেলেন সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া চন্দন মণ্ডল।এনআইএ-র পক্ষ থেকে ওই নোটিস পাঠানোর পরই বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে দুই শিবিরে। নোটিস পাওয়ার পরে তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চন্দন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ময়নার বাকচার ঘোড়ামহল গ্রামে বিজেপি বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে ২০২৩ –এর ১ মে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সময়ে এলাকায় অশান্তি ছড়ায়। নিহত বিজেপি নেতার স্ত্রী লক্ষ্মীরানি ময়না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি তৃণমূলের ৩৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তী কালে আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এরই মধ্যে গত সোমবার এনআইএ থেকে চন্দনের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কয়েক দিন আগে কলকাতার তৃণমূল ভবনে চন্দন বিজেপি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই এই মামলায় নোটিস পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। চন্দনের দাবি, দল পরিবর্তনের কারণেই তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করায় পরিকল্পিত ভাবে এই মামলায় তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’ তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছি, বিজেপি পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে। এই ঘটনাই তার স্পষ্ট উদাহরণ। চন্দন এতদিন বিজেপিতে ছিলেন। তখন এই মামলায় তাঁর নাম ছিল না। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে তাঁকে ভয় দেখাতেই নোটিস পাঠানো হচ্ছে।’
বিজেপির তরফে অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী সংস্থা যদি কাউকে ডেকে পাঠায় তাতে ভয়ের কি আছে! তদন্ত তার নিজের পথে চলবে। আর যদি কেউ দোষী হন তবে আইনের পথে তার শাস্তি হবে।’