এই সময়, হাড়োয়া: উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা, বারাসত, হাড়োয়া, মিনাখাঁর উপর দিয়ে গিয়ে সুন্দরবন লাগোয়া সন্দেশখালিতে পড়েছে বিদ্যাধরী। সেই নদী আজ মৃতপ্রায়, কচুরিপানায় ভরা। নৌকো চলাচলে সমস্যায় মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
মঙ্গলবারও সকাল থেকে বন্ধ ছিল হাড়োয়ার খাডুবালা ফেরিঘাট। বারাসত ২ নম্বর ব্লকের তেহাটা এবং দেগঙ্গার তেলিয়া ফেরিঘাটও বন্ধ ছিল এ দিন। অথচ এর আগাম খবর ছিল না যাত্রীদের কাছে। যার জেরে নিত্যযাত্রী থেকে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও প্রবল সমস্যায় পড়েন। বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছন তাঁরা। ঘাটের মাঝিরা জানান, কচুরিপানার কারণে ভুটভুটি নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই একরকম বাধ্য হয়েই যাত্রী নিয়ে বিদ্যাধরী পারাপার বন্ধ করেছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কচুরিপানার 'আস্তরণে' ক্রমশ সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যাধরী। নদী এখন কার্যত খালে পরিণত হয়েছে।
বছর কয়েক আগে বিদ্যাধরীর উপরে পিলার তুলে তৈরি হয়েছে হাড়োয়া সেতু। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের যাতায়াতে সুবিধে হলেও নদীটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি তো হচ্ছেই, সঙ্গে সমস্যায় পড়েছেন তিনটি ব্লকের মানুষ। এঁদের অনেককে ফেরিতে নদী পেরিয়েই নিত্য গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। অথচ তিন ব্লকের সংযোগ স্থাপনকারী সেই ফেরি পরিষেবাই বন্ধ। লায়লা বিবি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'সকাল থেকে এসে বসে আছি। পরে শুনি, নৌকো চলাচল বন্ধ। এখন বেশ ক'কিলোমিটার ঘুরে কাজে যেতে হবে। সময় আর খরচ দুই-ই বাড়বে।' মাঝি আয়ুব আলি গাড়ির কথায়, 'কচুরিপানার মধ্যে নৌকো চালানো যায় না। স্রোতে কোনওমতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পরে কচুরিপানা ঠেলে স্রোতের বিপরীতে নৌকো নিয়ে এগোনো প্রায় অসম্ভব। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে, এলাকার মানুষের সমস্যা হচ্ছে।'