এই সময়: সামনেই বাংলায় বিধানসভা ভোট। তার আগে বারবার রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, 'সার' শুরুর পর থেকেই বাংলায় মৃত্যুর মিছিল চলেছে। সাধারণ মানুষের অনেকেই আতঙ্কিত তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে। ভোটের প্রস্তুতি দেখতে দু'দিনের সফরে রাজ্যে এসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফুলবেঞ্চ। মঙ্গলবার দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্বাভাবিক নিয়মেই নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের তোলা একাধিক প্রশ্ন সিইসি-র কাছে তুলে ধরেন সাংবাদিকরা। তবে সুকৌশলে সে সব বাউন্সার 'ডাক' করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
'সার' প্রক্রিয়ায় একগুচ্ছ অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে গত ডিসেম্বরে দিল্লিতে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে আঙুল উঁচিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কথা বলেছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক।
'সার' নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানা প্রশ্ন তুলে ছ'টি চিঠি দিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমারকে। একটিরও জবাব পাননি বলে দাবি করেছেন মমতা। এমনকী, তিনি নিজে দিল্লি গিয়ে 'সার'-এর খসড়া তালিকায় জীবিত ভোটারকে 'মৃত' হিসেবে দেখানো নিয়ে অভিযোগ জানাতে হাজির হয়েছিলেন ফুলবেঞ্চের সামনে। কিন্তু অভিযোগ, এক জন মুখ্যমন্ত্রীকে সময় দিয়েও দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন জ্ঞানেশ কুমার। আবার সোমবার কলকাতায় ভোট নিয়ে তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে 'ডু নট শাউট' বলে বসিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের নেতানেত্রীদের এ সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। জানতে চাওয়া হয় রাজের শাসকদল যে অভিযোগ করেছে, সেগুলো নিয়ে তিনি কী বলবেন! যদিও এই সব প্রশ্নের সরাসরি কোনও জবাব জ্ঞানেশ দেননি।
সোমবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, এ দিন সিইসি-র সাংবাদিক বৈঠকে যেন তাঁরা প্রশ্ন করেন বাংলায় 'সার' তালিকায় কত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার নাম বেরিয়েছে। তিনি এমনও অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে 'সার' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে আরও সমস্যায় ফেলতে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ় করে দেবে ব্যাঙ্কগুলি।
এ বারও জ্ঞানেশ কুমার ডিফেন্সিভভঙ্গিতে শুধু বলেন, 'এ রকম কিছু জানা নেই। ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। সকলের বাকস্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।' তিনি অবশ্য জানান, কিছু ভোটার আছেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। তাঁদের কী করতে হবে, সেটা সংশ্লিষ্ট নেতারা বোঝাতে পারেননি। এই ভোটাররা আবার ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন করে লিস্টে নাম তোলার আবেদন জানাতে পারেন।
এ দিন সন্ধেয় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নামঞ্চে অভিষেক সাংবাদিকদের বলেন, 'বাংলায় যাঁরা সাংবাদিকতা করেন, তাঁদের আমি কুর্নিশ, স্যালুট জানাই। তাঁরা সৎ সাহস দেখিয়ে বাংলার সাংবাদিকদের সঙ্গে গদি মিডিয়ার তফাৎ বুঝিয়ে দিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁরা একাধিক কঠোর প্রশ্ন করেছেন। জ্ঞানেশ কুমার একটি প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেননি। এই প্রশ্নগুলো করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।'