• হুগলিতে ক্যাম্প করে আলু ক্রয় কৃষিজ বিপণন দপ্তরের, অভাবি বিক্রি বন্ধ করতে উদ্যোগ
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আলুর অভাবি বিক্রি নিয়ে হইচই শুরু হয়েছিল হুগলিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার একই দিনে পাঁচ জায়গায় ক্যাম্প করে আলু কেনা শুরু করেছে রাজ্যের কৃষিজ বিপণন দপ্তর। আলুর সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ৯৫০ টাকা কুইন্টাল। দপ্তর জানিয়েছে, আজ, বুধবার থেকে আরও চারটি অতিরিক্ত ক্যাম্প করা হবে। সবমিলিয়ে বুধবার থেকে হুগলি জেলাজুড়ে ৯টি ক্যাম্প চালু থাকবে। দপ্তরের কর্তাদের দাবি, প্রয়োজনে আরও ক্যাম্প করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই কৃষকদের অভাবি বিক্রির মুখে পড়তে দেওয়া হবে না।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। কৃষক মহল্লাতেও সাড়া পড়েছে। তবে প্রথমদিন প্রচারের অভাবে আলু বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করা যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, পান্ডুয়াতে তিনটি ও ধনেখালি এবং তারকেশ্বরে একটি ক্যাম্প মঙ্গলবার চালু করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করলেও আলু কেনার নিয়মে সরলীকরণের দাবি তুলেছেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত। তবে আলু কেনার নিয়মে সরলীকরণ প্রয়োজন। তাতে প্রকৃত অর্থে কৃষকরা উপকৃত হবেন। অন্যদিকে, আলুর সহায়ক মূল্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে বাম সংগঠনগুলি। আরএসপি’র হুগলি জেলা সম্পাদক মৃন্ময় সেনগুপ্ত বলেন, পঞ্চাশ কেজির বস্তা প্রতি অন্তত ৬০০ টাকা অর্থাৎ কুইন্টাল প্রতি ১২০০ টাকা সহায়ক মূল্য হওয়া উচিত ছিল। তা করা হয়নি। এতে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ হওয়া কঠিন।

    রাজ্যের কৃষিজ বিপণন মন্ত্রী তথা সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেন, আমাদের সরকার কৃষকদরদী। এবার আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তাতে কৃষকদের ক্ষতি রুখতে সরকার আলু কিনতে নেমে পড়েছে। আমরা সহায়ক মূল্যে যতটা সম্ভব আলু কিনে নেব। কৃষকদের সুবিধার জন্য হিমঘরের আশেপাশে ক্যাম্প করা হয়েছে। প্রয়োজনে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।রাজ্যে আলুর ফলনের নিরিখে হুগলি অন্যতম জেলা। আলুর ব্যাপক ফলনের জেরে গত কয়েকদিন ধরে বাজার দর পড়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে কৃষক মহল্লায় হাহাকার শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে সহায়ক মূল্যে আলু কিনতে মাঠে নামল সরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)