• চায়ের দোকান সামলে গঙ্গা বাঁচাতে প্রচার দুই ভাই লালু-ভুলুর
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুই ভাই। পোশাকি নাম চন্দন ও সন্দীপ দে। বাড়ি কাশী মিত্র ঘাট স্ট্রিটে। কিন্তু ওই নামে তাঁদের কেউ চেনেন না। সকলের কাছে তাঁরা পরিচিত লালু‑ভুলু নামে। কুমোরটুলি ঘাটের কাছেই স্ট্র্যান্ড ব্যাংক রোডে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালান দুই ভাই। দোকান সামলে তাঁরা গঙ্গা বাঁচানোর লক্ষ্যে প্রচারে শামিল হয়েছেন। ভাতৃদ্বয় ইতিমধ্যে কয়েকটি উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। নিজেরাই এই বিষয়ে ‘সচেতনতামূলক’ ফ্লেক্স, পোস্টার উত্তর কলকাতার গঙ্গা লাগোয়া বিভিন্ন গাছ‑গাছালির ডালে টাঙিয়েছেন। সেখানে গঙ্গা ও লাগোয়া এলাকায় আর্বজনা না ফেলার আবেদন জানিয়েছেন দুই ভাই। পাশাপাশি তাঁরা চায়ের কাপ, মাটির ভাঁড়, খাবারের থালা প্রভৃতি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলারও আরজি জানিয়েছেন। কুমোরটুলি গঙ্গা সংলগ্ন যে পথটি দিয়ে গিয়েছে চক্ররেলের লাইন, সেখানে ঝুলছে এই সতর্কবার্তার ফ্লেক্স। পাশাপাশি সুতানুটি পুলিশ ফাঁড়ির বাগানেও দেখা গেল এমন পোস্টার।

    কথা হচ্ছিল লালুবাবুর সঙ্গে, যাঁর পোশাকি নাম চন্দন দে। চায়ের দোকান সামলাতে সামলাতেই তিনি বলেন, যেভাবে গঙ্গা দূষণ ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। তাই এই নদীকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের। নদী‑নালা, গাছ‑গাছালি না বাঁচলে আমরাও বাঁচব না। সেই কারণেই আমরা দুই ভাই উদ্যোগ নিয়েছি, যদি কিছু করা সম্ভব হয়। দেখা যাক, কতটুকু কী করা যায়।

    এরপরই একটু হেসে তিনি বলেন, এর আগেও এই ধরনের কিছু ছোট ছোট ফ্লেক্স লাগিয়েছিলাম এই এলাকাকে ঘিরে। কিন্তু কিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে, আর হাওয়াতে কিছুর বাঁশের কঞ্চি, কাঠের বাটাম খুলে গিয়েছে। ফের নতুন করে কিছু ফ্লেক্স সেখানে লাগানো হয়েছে।

    কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর আগে গঙ্গা লাগোয়া চত্বরে বাবা চায়ের দোকান খুলেছিলেন। ২০২০ সালে বাবার মৃত্যু হয়। তারপর থেকে ফুটপাতের এই চায়ের ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্ব কাঁধে নিই দুই ভাই। চায়ের ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি কুমোরটুলি ও তার আশপাশ চত্বরে যাঁরা গঙ্গার ঘাটে আসেন, তাঁদের কাছে আবেদন জানাই গঙ্গার ঘাটে যাতে কোনও অবস্থাতাতেই ফলের খোসা, মাটির ভাড়, কাগজের কাপ, কাগজের থালা প্রভৃতি না ফেলা হয়।

    উত্তর কলকাতার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে রোজ বহু মানুষ আসে ঘুরতে। রয়েছে একাধিক ফেরি পরিষেবাও। ফলে ঘাটগুলিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক দোকানপাট। কিন্তু অভিযোগ, অনেকে চা কিংবা খাবার খেয়ে কাগজের কাপ-প্লেট, মাটির ভাড় গঙ্গার পাড়েই ফেলে দেন। কেউ কেউ আবার গঙ্গা লাগোয়া যে বাগান ও পার্ক রয়েছে, সেখানে সেগুলি ছুঁড়ে ফেলেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেই সব আবর্জনা ফের গড়িয়ে গিয়ে পড়ে গঙ্গায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সবুজের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সত্যরঞ্জন দলুই নামে এক ব্যক্তি। তিনি এই অঞ্চলে পথে‑ঘাটে বহু গাছ বসিয়েছেন। তিনি বলেন, গঙ্গা বাঁচানোর ক্ষেত্রে ওই দুই ভাই যে প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এইভাবে সকলে এগিয়ে এলে গঙ্গা নদীকে অবশ্যই বাঁচানো সম্ভব হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)