ঘোষবাগান-কাশীপুর থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত চালু হচ্ছে নয়া বাস রুট ‘এস-৬৯’
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাশীপুর-ঘোষবাগান অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। শহরের বুকে চালু হচ্ছে নয়া সরকারি বাস রুট। ঘোষবাগান-কাশীপুর এলাকা থেকে সাঁতরাগাছি স্টেশন পর্যন্ত এস-৬৯ রুটের বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে কাল, বৃহস্পতিবার থেকে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে চলেছে বলে আশাবাদী প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, ঘোষবাগান বরমবাবা মন্দির থেকে সাঁতরাগাছি স্টেশন পর্যন্ত এই বাস চলবে। রিজেন্ট সিনেমা, বিবিবাজার, চিড়িয়া মোড় হয়ে টালা ব্রিজ, শ্যামবাজার, খান্না মোড়, মানিকতলা, রাজাবাজার, জগৎ সিনেমা হয়ে এন আর এস হাসপাতাল থেকে সোজা জোড়া গির্জা, মল্লিক বাজার, মিন্টো পার্ক, এক্সাইড মোড়, রবীন্দ্র সদন, পিটিএস, টোল প্লাজা, পদ্মপুকুর, বাংলা পাড়া, বেতড়, জানা গেট হয়ে সাঁতরাগাছি ব্রিজ ধরে সাঁতরাগাছি স্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত করবে এই বাস।
আপাতত চারটি বাস দিয়ে শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা।
এই অঞ্চলের বাসিন্দারা যানবাহন সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। ঘোষবাগান অঞ্চল থেকে পুরানো টালা ব্রিজে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি ছিল। টালা ব্রিজের উপরে দু’দিকেই ছিল বাসস্ট্যান্ড। ফলে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা সহজেই সিঁড়ি দিয়ে ব্রিজে উঠে পাইকপাড়া, বি টি রোড কিংবা শ্যামবাজার, হাওড়া, শিয়ালদহের দিকের বাস ধরতে পারতেন। কিন্তু নতুন টালা ব্রিজে সেই সুযোগ নেই। তাই তাঁদের বর্তমানে বেশ কিছুটা হেঁটে পাইকপাড়ায় আসতে হয়। অথবা বাস ধরার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে বাগবাজারে যেতে হয়। এই সমস্যায় নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছিল। এবার সেই ভোগান্তি দূর হবে। স্থানীয় বাসিন্দা রঘুবীর দাস, সীমা জয়সওয়ালরা জানাচ্ছেন, এর ফলে অনেকটা সুবিধা হবে। অফিস টাইমে কিংবা স্কুল-কলেজ যাতায়াত সহজ হবে। এখন তো বাস ধরার জন্য পাইকপাড়া কিংবা বাগবাজার যেতে হয়। রিক্সা ভাড়াই লেগে যায় অনেক টাকা। স্থানীয় বিধায়ক অতীন ঘোষ বলেন, ‘নতুন করে টালা ব্রিজ তৈরি হওয়ার মাঝপথে আমি বিধায়ক হয়ে আসি। পুরানো ব্রিজে উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে যাওয়ার জন্য দু’টি বাসস্ট্যান্ড ছিল। নতুন টালা ব্রিজে বাসস্ট্যান্ড পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়নি। যখন এই ব্রিজ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে, তখন এখানকার মানুষজন বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিশেষ করে পশ্চিম পাড়ে যাঁরা ঘোষবাগানের দিকে থাকেন, তাঁরা প্রচণ্ড সমস্যার মধ্যে পড়েন। ব্রিজে ওঠার জন্য সিঁড়ি না থাকায় প্রবল বিক্ষোভও হয়েছিল। বিজেপি রাজনৈতিক ইস্যু করেছিল। তখন আমি ওখানকার মানুষকে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলাম। তারপর পুলিশ, পরিবহণ দপ্তর সহ সবাইকে নিয়ে সার্ভে হয়। দেখা যায়, চার লেনের নতুন ব্রিজে বাসস্টপ করলে যানজট তৈরি হবে। ব্রিজে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে যাবে। তাই ট্রাফিক পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এখানে বাসস্টপ করা যাবে না। দুর্ঘটনা বাড়বে। তারপর বিকল্প হিসেবে আমরা এই বাসরুটের চিন্তাভাবনা করি। পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সহযোগিতা করেছেন। এক-দেড় বছর ধরে প্রক্রিয়া চলছিল। সার্ভে করা হয়। পুলিশের অনুমোদন মেলে। অবশেষে ঘোষবাগান থেকে নতুন বাস রুট চালু হচ্ছে।’ স্থানীয় কাউন্সিলার সুমন সিং বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের এই অঞ্চলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। ঘোষবাগান এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বহু মানুষ থাকেন। তাঁদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ করে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম।’