পাথরপ্রতিমার জি-প্লট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই স্থায়ী ডাক্তার, সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: খাতাকলমে রয়েছেন দু’জন চিকিৎসক। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের খুব একটা দেখা যায় না। প্রায়ই তিনজন নার্স চেয়ার ও টেবিল নিয়ে বসে থাকেন। এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে চলছে পাথরপ্রতিমার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ এই গ্রাম পঞ্চায়েতটি স্থলভাগ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। চারিদিক নদী বেষ্টিত এই দ্বীপের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেখানকার স্বাস্থ্য পরিষেবাই বেহাল হয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে প্রায় ৩১ হাজার মানুষ বসবাস করেন। বেশিরভাগ মানুষেরই পেশা কৃষিকাজ ও মৎস্য শিকার। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দশা বেহাল হওয়ায় এই এলাকার সব গরিব বাসিন্দাদের খরচা করে গ্রামীণ চিকিৎসকদেরই দেখাতে হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে, চিকিৎসার পরিকাঠামোও রয়েছে। কিন্তু স্থায়ী চিকিৎসক না থাকার কারণে আমাদের খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বাসুদেব জানা বলেন, এই দ্বীপের তিন দিকে বড় নদী, আর এক দিকে রয়েছে সমুদ্র। এখানকার কোনো বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়লে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এদিকে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় সময় চিকিৎসক থাকেন না। বাধ্য হয়ে অর্থ ব্যয় করে গ্রামীণ চিকিৎসককে দেখাতে হয়। কিন্তু তাতে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে, রোগীকে ভুটভুটিতে করে প্রায় তিন ঘণ্টা দূরে পাথরপ্রতিমার ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অতীতে বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই বহু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রসূতি রোগীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে চিকিৎসক নিয়োগ করা না হলে, ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়বে।
পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা বলেন, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করে শীঘ্রই ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ীভাবে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হবে।