নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত ওরফে রোহিতকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে সিআইডি। এলাকা চিহ্নিতকরণ থেকে কীভাবে তারা এই ঘটনা ঘটাল, তা তদন্তকারীদের সামনে দেখাবে দুই অভিযুক্ত। যাতে আদালতে প্রমাণ করা যায়, তারাই ঘটনাস্থল চিহ্নিত করেছে। খুনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী টিপুর উপর নজর রেখেছেন গোয়েন্দারা। কারণ শফিক খানের অন্যতম সহযোগী ছিল এই টিপু। হারুনকে আদালতে তোলার দিন তাকে কোর্ট চত্বরের বাইরে দেখা গিয়েছিল।
শফিক খুনের তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জেনেছেন, উত্তর হাওড়ায় দুষ্কৃতীদের কয়েকটি গোষ্ঠী অতি সক্রিয়। তারাই এলাকায় তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্ম করে বেড়ায়। তাদের সকলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। বাকিরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকায়। তাদের সঙ্গে আবার পুলিশের নীচুতলার কর্মীদের একাংশের মেলামেশা রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশের কেউ কেউ তাদের মদত দেয়। যে কারণে টিপুর এত বাড়বাড়ন্ত। গোয়েন্দারা জেনেছেন, শফিক খুনের পর টিপু বদলা নিতে দলবল নিয়ে পিলখানায় এসেছিল। কিন্তু হারুন তার আগেই পালিয়ে যাওয়ায় ফিরে যায় টিপু ও তার শাগরেদরা। কার কার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। এই অপরাধ চক্রের লোকজন বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে। সেখানকার বেআইনি অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। মুঙ্গেরের কারিগররা এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বানাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই কারখানাগুলি কোথায়, সেই তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। যাতে ভোটের আগেই সেগুলিতে তালা ঝোলানো যায়।