চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে সৌন্দর্যায়ন ও পরিকাঠামোর উন্নতিতে বরাদ্দ ৮৭ লক্ষ
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সৌন্দর্যায়ন ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কার্যত নতুন চেহারা পেতে চলেছে হুগলি জেলা সদর হাসপাতাল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হুগলির সাংসদের উদ্যোগে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দু’জনের তহবিল থেকে মোট ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালের ভিতরে একটি পুকুরকে সাজিয়ে তোলা হবে। সেইসঙ্গে রোগীর আত্মীয়দের রাত যাপনের জন্য বিশ্রামাগার, বিশেষ নিকাশি ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের জলকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রকল্প তৈরি করা হবে। সেইসঙ্গে হাসপাতালের আলোর ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ ও নতুন আলো বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাংসদের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুত ওই পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজ শুরু করা হবে।
চুঁচুড়া পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) জয়দেব অধিকারী বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ করেছেন। সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। সেই টাকায় হাসপাতালের সৌন্দর্যায়ন সহ নানা আধুনিক ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণের জন্য পদক্ষেপ করা হবে। সাংসদ ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। হুগলি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, বরাবরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমাদের সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। স্থানীয় স্তরে সেই নীতিতেই কাজ করা হচ্ছে। চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালকে ঘিরে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হতে চলেছে, তাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অন্যরকম চেহারা দেখা যাবে।
২০১৯ সাল থেকেই চুঁচুড়ার জেলা সদর হাসপাতাল বা ইমামবাড়া হাসপাতালকে ঘিরে আধুনিকীকরণের জোয়ার এসেছিল। অক্সিজেন প্লান্ট থেকে বিশেষ ধরনের ট্রমা কেয়ার ব্লক নির্মাণের পরিকল্পনা তখনই নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেসব কাজ শেষ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি, জন প্রতিনিধিদের তহবিলের টাকাতেও একগুচ্ছ উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সেই ধারাতেই সাংসদ তহবিলের টাকায় নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালের মধ্যে থাকা একটি পরিত্যক্ত পুকুরকে ঘিরে সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাব এসেছিল। আবার, হাসপাতালে ব্যবহৃত জলকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের মধ্যে গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিং জোন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে এবং বাইরের অংশকে আলোকিত করতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। সব মিলিয়ে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালকে কেন্দ্র করে মেগা প্রকল্পে সরকারি সিলমোহর পড়েছে।