• বিজেপির তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও মতুয়াগড় বনগাঁয় ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বিপুল আবেদন
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘নাগরিকত্ব’ এখনও অধরা। এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র তথা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ চড়ছে মতুয়াগড় বনগাঁয়। এই আবহে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত মতুয়াগড়ে রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বিপুল সাড়া মিলল। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমায় এই প্রকল্পে কত আবেদন জমা পড়েছে, সেই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নয়া রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেকে। বিজেপির প্রকাশ্য বিরোধিতা সত্ত্বেও তাদের ‘গড়’ বলে পরিচিত এলাকাতেই ব্যাপক সংখ্যায় আবেদনে গেরুয়া শিবিরের চাপ যথেষ্ট বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বনগাঁ মহকুমার তিনটি ব্লক এবং দু’টি পুরসভায় ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বিপুল আবেদন জমা পড়েছে। গাইঘাটা ব্লকে আবেদন পড়েছে ২১ হাজার ৫১৫টি। বনগাঁ ব্লকে সেই সংখ্যা ২৪ হাজার ৭১৯। বাগদা ব্লকে আবেদন জমা পড়েছে ১৭ হাজার ২৮৫টি। গোবরডাঙা পুরসভায় জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৯৩। বনগাঁ পুরসভায় ৮ হাজার ৩২৯টি আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে বনগাঁ মহকুমায় মোট আবেদন দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৮৬১। জেলার অন্যান্য মহকুমার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এই অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে বনগাঁয় মতুয়া ভোটারদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে রাজনীতি। এর ভিত্তিতে বনগাঁ মহকুমায় শক্ত ভিত তৈরি করতে পেরেছিল বিজেপি। মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের মন জয় করতে গেরুয়া শিবির বরাবর সচেষ্ট ছিল। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে একটু একটু করে এই সমীকরণ বদলেছে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তার দেখা নেই। এসআইআরে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই আবহে বনগাঁয় ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বিপুল আবেদন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই প্রকল্পকে রাজনৈতিকভাবে তীব্র আক্রমণ করে এসেছে বিজেপি।

    উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্ক প্রসূত যুবসাথী প্রকল্পে জেলায় আবেদন জমা পড়েছে ৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৫৯টি। অনেক আবেদনকারী টাকা পেতে শুরু করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বিজেপির গড় বনগাঁয় আবেদন বেশি।’ এনিয়ে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জাফর আলি মণ্ডল বলেন, ‘পরিষেবার ক্ষেত্রে সরকার কখনোই রাজনীতি দেখে না।’

    ‘যুবসাথী’র আবেদনকারী সূর্য বিশ্বাস ও সৃজা হালদারদের দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প আমাদের জন্য বিশেষভাবে কাজে লাগবে। কলেজে যাতায়াত, সর্বোপরি পড়াশোনার কাজে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে।’ যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, কোনো সরকারি প্রকল্পে আবেদন করা মানেই শাসক দলের রাজনীতিকে সমর্থন নয়। যতই চেষ্টা হোক, বিজেপি সারা রাজ্যের মতো বনগাঁয়ও এবার বিপুলভাবে জিততে চলেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)