মেরামতের দু’মাসের মধ্যে রাস্তা ভেঙে গর্ত, লক্ষ লক্ষ টাকা জলে, গিরিশচন্দ্র ঘোষ স্ট্রিট নিয়ে তীব্র বিতর্ক বরানগরে
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: দেখে আঁতকে উঠছেন বরানগরের বাসিন্দারা! মাত্র ২৫২ মিটার রাস্তা তৈরিতে খরচ হয়েছিল ১১ লক্ষ টাকা। দু’মাসও কাটল না, রাস্তা থেকে উঠতে শুরু করেছে স্টোনচিপ। তৈরি হয়েছে গর্ত। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘বরাদ্দ করা টাকার বেশিরভাগটাই রাস্তা তৈরির আগে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে গিয়েছে। ফলে ঠিকমতো কাজ হয়নি।’ এখন এ নিয়ে বরানগরজুড়ে চলছে তীব্র বিতর্ক।
বরানগর পুর এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। পথশ্রী বা পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের আগে রাজ্য সরকার বরানগরের রাস্তার কাজের জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই টাকায় একাধিক পথ মেরামত হয়। এই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি হলো ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গিরিশচন্দ্র ঘোষ স্ট্রিট। বিটি রোডের বনহুগলি মোড় থেকে ওই রাস্তা গোপাললাল ঠাকুর রোডে মিশেছে। এটি নিয়েই উঠছে অভিযোগ। শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পথটি খুব একটা ভাঙাচোরা ছিল না। তবে বর্ষার সময় হাঁটু সমান জল দাঁড়াত। সেই রাস্তা উঁচু করে ঢালাই করা হয়। প্রায় ২৫২ মিটার লম্বা রাস্তা সারাতে বরাদ্দ হয়েছিল ১১ লক্ষ টাকা। কাজ চলাকালীন প্রায় ১৫ দিন বন্ধ ছিল পথ। অনেকেই এই কারণে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবে কষ্ট স্বীকার করেও নিয়েছিলেন। ২০ ডিসেম্বর হয় রাস্তা ঢালাই। তারপর পয়লা জানুয়ারি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিটি রোড ও গিরিশচন্দ্র ঘোষ স্ট্রিটের সংযোগে স্থানীয় একটি ক্লাব এই কাজের সুখ্যাতি করে বিশাল একটি ব্যানার টাঙায়। সেটি এখনও রাস্তায় জ্বলজ্বল করছে। ব্যানারে লেখা, ‘বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, রাজ্যের এইচসিএম প্রকল্পে ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষ স্ট্রিটে নতুন কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। সায়ন্তিকাদেবীকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
অভিযোগ, ব্যানারটি অক্ষত থাকলেও দু’মাসের মধ্যে রাস্তাটি গিয়েছে ভেঙে। এক মাস যেতে না যেতেই সিমেন্ট ও বালি উঠতে শুরু করে। তারপর স্টোন চিপস ওঠা শুরু হয়। দু’মাস পর গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে স্টোনচিপ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন পথচারীরা। এই ঘটনায় বিরক্ত বরানগরের বাসিন্দারা। শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছে যে ক্লাব, সেটির কর্মকর্তা আইএনটিটিইউসি নেতা শঙ্কর রাউত। তিনি বরানগর পুরসভার ‘কনট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন’য়ের সম্পাদক পদে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের সামনে দিয়ে ওই রাস্তা গিয়েছে। রাস্তা দু’মাসের মধ্যে ভাঙতে শুরু করেছে। আমি চাই তদন্ত হোক। যে ঠিকাদার ওই কাজ করেছেন তাঁকে রাস্তার দায়িত্ব নিতে হবে।’ আর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ডালিয়া মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি এই এলাকার কাউন্সিলার হওয়া সত্ত্বেও রাস্তাটি যে হবে তা জানতাম না। রাস্তার কাজ দেখভালের কোনও সুযোগ ছিল না। দু’মাসে কেন রাস্তায় এই হাল দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলতে পারবেন।’ পুরসভার সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ঠিকাদারকে ব্ল্যাকলিস্টেড ও জরিমানা করা উচিত।’