• বাড়তি লেন, চিংড়িঘাটায় যানজট কমবে ৪০ শতাংশ, শান্তিনগরে কাজ শুরু কেএমডিএর
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সিগন্যালে স্টপেজ টাইম দু’মিনিট। অথচ স্টেডিয়াম থেকে চিংড়িঘাটা ক্রসিং পার করতেই ১৫ মিনিটের ধাক্কা।’

    সন্ধ্যায় অফিস ছুটির ব্যস্ত সময়ে এমন বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী চিংড়িঘাটা দিয়ে যাতায়াত করা হাজার হাজার গাড়ি ও বাইক চালক। সমস্যা অনেক দিনের। এই জায়গায় যানজটে রাশ টানতে ইতিপূর্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে রাস্তার হাল বদলায়নি। পালটায়নি আম জনতার ভোগান্তির রোজনামচাও। তাই এবার চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে ই এম বাইপাসের সায়েন্স সিটি, রুবিগামী ফ্ল্যাঙ্কে যানজট কমাতে বাড়ানো হচ্ছে লেনের সংখ্যা। চওড়া করা হচ্ছে রাস্তা। এক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের ‘পাখির চোখ’ চিংড়িঘাটা ক্রসিং ও ক্যাপ্টেন ভেড়ির মাঝের অংশ। এখানেই যানবাহনের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে। তাই শান্তিনগর কালভার্টের কাছে রাস্তা চওড়া করে নতুন লেন তৈরির কাজ শুরু করল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)। এই লেন তৈরি হলে বাইপাসের সায়েন্স সিটি মুখী ফ্ল্যাঙ্কের যানজট প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে বলে আশাবাদী লালবাজার।

    উল্লেখ্য, ২৭ ফেব্রুয়ারি লালবাজারে চিংড়িঘাটার যানজট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি সেখানে হাজির ছিলেন কলকাতা পুরসভা, কেএমডিএ সহ অন্যান্য সংস্থার কর্তারা। যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) রূপেশ কুমার কেএমডিএ-কে রুবিগামী ফ্ল্যাঙ্কের লেন সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করেন। তাঁকে জানানো হয়, ক্রসিং সংলগ্ন মিষ্টির দোকান ভাঙা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সেই মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশে কাজ এগনো সম্ভব নয়। কিন্তু, নিত্য যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। চাপ বাড়ছে বিধাননগর পুলিশের উপরেও। সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন থেকে আসা গাড়িগুলি সহজে বাইপাসে উঠতে পারছে না। সিগন্যালে বহুক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এই ‘যান-যন্ত্রণা’ নিরাময়ে ক্রসিং সংলগ্ন মিষ্টির দোকান থেকে ক্যাপ্টেন ভেড়ি শুরুর আগে পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিটার অংশকে বেছে নেওয়া হয়েছে নয়া লেনের জন্য। এই অংশটি স্থানীয়ভাবে শান্তিনগর কালভার্ট নামে পরিচিত। বর্তমানে সেখানেই রয়েছে চিংড়িঘাটা বাসস্টপ। সায়েন্স সিটি মুখী ই এম বাইপাসের একেবারে বাঁ দিক ঘেঁষে চওড়া করা হবে রাস্তা। পুলিশের প্ল্যানিং শাখার আধিকারিকদের অনুমান, এই অংশ প্রশস্ত হলে চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে যানজট অনেকটা কমবে। সিগন্যাল খোলা থাকলে আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত গাড়ি একেবারে বেরিয়ে যেতে পারবে। যদিও বাস্তবে তা হয় কি না, সময়ে মিলবে তার উত্তর।

    নয়া লেনটি তৈরি করছে কেএমডিএ। তারা পুলিশকে জানিয়েছে, ওই অংশের রাস্তা চওড়া করার প্রাথমিক কাজকর্ম শুরু করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বছর দু’য়েক আগে চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে উল্টোডাঙামুখী ফ্ল্যাঙ্কে একইভাবে একটি লেন বাড়ানো হয়েছিল। তার সুফলও মিলেছে। বাঁদিক ঘেঁষে বাইক, স্কুটার ও ছোটো গাড়ি বেশি সংখ্যায় বেরিয়ে যেতে পারে। ঠিক একই পরিকল্পনায় এবার চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের সায়েন্স সিটিগামী ফ্ল্যাঙ্কে যানজট থেকে মানুষকে রেহাই দিতে তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)