• লিভ-ইনে অন্তঃসত্ত্বা, পানীয়ে ওষুধ মিশিয়ে প্রেমিকার গর্ভপাত, গরফায় আটক বাংলাদেশি
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার বছরের প্রেম। শেষ দু’বছর ধরে এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন শহরের এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের ডান্স কোরিওগ্রাফার। জানুয়ারি মাসে ওই তরুণী জানতে পারেন, তিনি সন্তানসম্ভবা। তারপরেই অবনতি হয় সম্পর্কের।

    প্রেমিকা গর্ভবতী হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে যুবক। তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকে সে। কিন্তু তাতে সায় ছিল না ওই তরুণীর। বরং মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চেয়েছিলেন তিনি। শেষমেশ ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়ায় মৃত্যু হয় ভ্রূণের। এরপরেই লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে গরফা থানার অভিযোগ জানান তরুণী। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ফটোগ্রাফার প্রদ্যুম্ন দাস ওরফে আদির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এদিন রাতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। প্রেমিকার অভিযোগ, ভোটার, আধার, প্যান, রেশন— সব পরিচয়পত্রই রয়েছে প্রদ্যুম্নর। তবে সবগুলিই জাল। আদতে সে বাংলাদেশের নাগরিক। নদীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে এদেশে বাস করছিল সে। শুধু তাই নয়, সেই জাল নথি দিয়েই গরফা থানা এলাকার কলুপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। যেখানে তাঁরা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকছিলেন। তরুণী জানিয়েছেন, তিনি পেশায় ডান্স কোরিওগ্রাফার। ২০২২ সালে এক ‘কমন’ বন্ধুর সূত্রে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় ফটোগ্রাফার প্রদ্যুম্নর। বন্ধুত্ব থেকেই শুরু হয় প্রেম।

    এসআইআর আবহে যুবতী জানতে পারেন প্রদ্যুম্ন বাংলাদেশি। পরিচয় সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতারিত হলেও সম্পর্কের মধ্যেই ছিলেন তরুণী। তাঁর দাবি, গত ২৫ জানুয়ারি বুঝতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। সেকথা লিভ-ইন সঙ্গীকে জানান। অভিযোগ, সন্তানের জীবন শেষ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রদ্যুম্ন। অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুও গর্ভপাতের জন্য চাপ দেয় বলে অভিযোগ। এই পর্বেই লিভ-ইন সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যায় ছদ্ম-পরিচয়ের ফটোগ্রাফার।

    অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রদ্যুম্ন হঠাৎই ফোন করে অশান্তি মিটিয়ে নিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। আসলে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রদ্যুম্ন তাঁকে এক বন্ধুর বাড়িতে ডেকে পাঠায়। ৪ মার্চ বিকালে হালতুর সেই বাড়িতে যান তরুণী। সেখানে প্রেমিকাকে ঠান্ডা পানীয় অফার করা হয়। তাঁর দাবি, তাঁকে একটি গ্লাসে ঢেলে দেওয়া হলেও নিজেরা বোতল থেকেই সেই পানীয় খায়। গ্লাসের পানীয় খাওয়ার পর অসুস্থ বোধ করায় বাড়ি ফিরে যান তিনি। তারপর রক্তক্ষরণ শুরু হয় অন্তঃসত্ত্বার। বেরিয়ে আসে মৃত ভ্রূণ। মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুটা সুস্থ হতেই গরফা থানার দ্বারস্থ হন তরুণী। তাঁর অভিযোগ, গর্ভপাতের জন্য রাজি না হওয়ায় তাঁর হবু সন্তানকে খুনের পরিকল্পনা করে লিভ-ইন পার্টনার। সেই উদ্দেশ্যেই পানীয়ের সঙ্গে ক্ষতিকারক ওষুধ মিশিয়ে গর্ভপাত করানো হয়। পুলিশের পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, যুবতীর থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্টের ধারায় একটি মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত ফটোগ্রাফার কার মারফত এদেশে এসেছিল, কীভাবে জাল নথি নিয়ে এদেশে থাকছিল, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)