নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। শুধু তাই নয়, চাইলেই যে পাওয়া যাবে এমন নয়, বিস্তর নিয়মকানুন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গ্যাস পেতে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় এক মাস। কিন্তু রান্না না করলে তো সাধারণ মানুষের চলবে না। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে হন্যে সবাই। দোকানগুলিতে ইন্ডাকশন, রাইস কুকার, মাইক্রোওভেন কেনার ভিড়। গ্যাসের অভাবে হোম ডেলিভারি প্রায় বন্ধ। ফলে ইলেকট্রনিক রান্নার যন্ত্র কিনতে ছুটছে বাঙালি। বিক্রেতারা বলছেন, ‘বিক্রি বেড়ে গিয়েছে প্রায় দেড় গুণ।’
রাসবিহারী মোড়ের এক দোকানদার বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি বলেছিলাম ইন্ডাকশনের স্টক বাড়ানোর জন্য। যতটা পেরেছি বাড়িয়েছি। কিন্তু এবার শুনছি, ইন্ডাকশনেরও দাম বাড়তে চলেছে।’ মোটামুটি ১ হাজার ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের ইন্ডাকশন কুকার পাওয়া যায়। লেক মার্কেটের এক বিক্রেতার কথায়, ‘আমার দোকানে মানুষ আসছেন ইন্ডাকশন, রাইস কুকারের দাম জিজ্ঞেস করতে। দাম জেনে কেউ কিনে ফেলছেন। কেউ ফিরে যাচ্ছেন।’ সংস্থাগুলি বলছে, গ্যাসের তুলনায় এতে খরচ কম হয়। কিন্তু কে আর হিসেব করতে যাচ্ছে এই আকালে। ওই চত্বরের একটি দোকানে এক ক্রেতা ইন্ডাকশন কিনতে এসে বললেন, ‘দিনকাল যা পড়েছে, একটা ইন্ডাকশন বাড়িতে রাখতেই হবে। কষ্ট করে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে হয়ত গ্যাস পেয়ে গেলাম। কিন্তু সিলিন্ডার যদি নাই পাওয়া যায়, তাহলে তখন কি করব! সেই জন্য একটা ইন্ডাকশন বাড়িতে রাখতেই হচ্ছে।’ অনেকে আবার আগেই কিনে রেখেছেন। তাঁরা রাইস কুকার কিনে রাখতে চাইছেন। এক ক্রেতার কথায়, ‘সহজে ভাত-আলু সেদ্ধ করে নেওয়া যায় বলে শুনেছি। এবার দাম যদি ঠিকঠাক হয় কিনে নেব।’
রাসবিহারী মোড়ের একটি দোকানের মালিক প্রসেনজিত্ গুইন বললেন, ‘গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার পর ইন্ডাকশনের চাহিদা বেড়েছে। মানুষ দোকানে এসে খোঁজ করছেন। আগে যা বিক্রি হত তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। আমরা যতটা পারি স্টক করে রাখছি।’ অন্য এক বিক্রেতার কথায়, ‘আমরা খবর পাচ্ছি, সামনের মাস থেকে সমস্ত ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। এখন যার কাছে ভালো স্টক আছে, তারা রাজা। অনেকেই ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।’ অন্যান্য বিক্রেতাদের মতে, গ্যাস নিয়ে যেরকম বিড়ম্বনা শুরু হয়েছে আগামী দিনে হয়ত সবকটা বাড়িতেই ইন্ডাকশন রাখতে হবে।